• মে ১৮, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের কর্মচারী তাজউদ্দীনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

Byadmin

সেপ্টে. ৩০, ২০২৫

সোহেল রানা : বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) কর্মচারী তাজউদ্দীনের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে ২০ লাখ টাকার প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

তাজউদ্দীন বিসিআইসি কর্মচারী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বিসিআইসি যুব শ্রমিক লীগের সভাপতি। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে তিনি নিজেকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিচয় দিয়ে করপোরেশনে প্রভাব বিস্তার করতেন। তার দাপটে কর্মচারীরা সবসময় আতঙ্কে থাকতেন।

সূত্র জানায়, তিনি বিসিআইসির মুক্তিযোদ্ধা অফিসে কাউকে প্রবেশ করতে দিতেন না। কেউ চাবি চাইলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন। অফিসে বসেই দরজা বন্ধ করে মাদক সেবনের ঘটনাও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। প্রায়ই বাইরের লোকজনকে নিয়ে এসে নিজেকে শেখ হেলালের আত্মীয় দাবি করতেন এবং এই পরিচয়কে ব্যবহার করে সাধারণ কর্মচারীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালাতেন। নিয়মিত মাসিক চাঁদা আদায়, কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বেরিবাধ এলাকার কাশ্মীর গার্ডেন পাড়ায় তিনি মাদকাসক্তদের আড্ডাখানা চালান। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর সেখানে মাদক ব্যবসা, জুয়ার আসর ও দেহ ব্যবসা চলে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, তাকে প্রায়ই মাতাল অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

অভিযোগ রয়েছে, তাজউদ্দীন চাকরি দেওয়ার নামে বহু মানুষের কাছ থেকে নগদ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। কয়েকজনের কাছ থেকে তিনি ১৫ লাখ টাকা করে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রতারণার কৌশল হিসেবে তিনি নিজস্ব কিছু লোক দিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের ফোন করাতেন। ফোনে তার লোকেরা বলত—“স্যার আমাকে চাকরি দিয়েছেন, পছন্দের জায়গায় পোস্টিংও দিয়েছেন।” এতে প্রতারণার শিকাররা আশ্বস্ত হয়ে তার হাতে টাকা তুলে দিতেন। কিন্তু পরবর্তীতে চাকরি হয়নি, টাকা ফেরতও পাননি। উল্টো ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়তে হতো।

ভুক্তভোগী মেনু মিয়া জানান, তাজউদ্দীন তার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়েছেন এবং তার খালাতো ভাইয়ের কাছ থেকেও চাকরির নামে আরও ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এমনকি মেনু মিয়ার খালা ৩০ আগস্ট ২০২৪ তারিখে তাজউদ্দীনকে আরও ৫ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু টাকা ফেরত চাওয়ায় তাজউদ্দীন উল্টো তাদের হুমকি দেন—“তোকে তুলে নিয়ে গুম করে দেব।”

মেনু মিয়া আরও বলেন, তার খালা ভিটেমাটি, গহনা, হাঁস-মুরগি বিক্রি করে কষ্ট করে টাকা জোগাড় করেছিলেন। কিন্তু প্রতিশ্রুত চাকরি মেলেনি। চাকরি না পেয়ে তার খালাতো ভাই দেউলিয়া হয়ে পড়েছেন। তিনি তাজউদ্দীনের কঠোর বিচার দাবি করেন।

একজন সরকারি চাকরিজীবী হয়েও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া কেবল ব্যক্তিগত নয়, সামাজিকভাবে চরম নিন্দনীয়। ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

তাজউদ্দীনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights