নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা:
ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপ এবং একটি নিরাপদ, মানবিক ও আপসহীন বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার করে ২৬ দফা অগ্রাধিকারভিত্তিক নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার ৪ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াত আমির সাতচল্লিশ, একাত্তর ও চব্বিশের গণ-আন্দোলন ও বিপ্লবে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একটি পরিচ্ছন্ন, নৈতিক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আমরা সামনে এগোচ্ছি।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের দমন-পীড়ন ও নিপীড়নের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিহার করে মেধা, উদ্ভাবন ও আদর্শনির্ভর নেতৃত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্য নিয়েই জামায়াতে ইসলামী এই ইশতেহার প্রণয়ন করেছে।
তিনি আরও বলেন, ইশতেহারের প্রতিটি দফা জনগণের অধিকার হিসেবে বিবেচিত হবে এবং দিন, সপ্তাহ, মাস ও বছর হিসাব করে জনগণ যেন দলটির কাছ থেকে এসব বাস্তবায়ন আদায় করে নিতে পারে, সে অধিকার নিশ্চিত করতেই তাঁরা এই ইশতেহার উপস্থাপন করেছেন।
গত সাড়ে ১৫ বছরে দেশের বিরোধী দল, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, আলেম-ওলামাসহ কেউই নিপীড়নের হাত থেকে রক্ষা পাননি উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন,
“আমরা মজলুম ছিলাম। কিন্তু ৫ আগস্টের পর যেন সেই স্মৃতিগুলো অনেকেই ভুলে গেছেন।”
তিনি অভিযোগ করেন, এই সময়ের মধ্যে কেউ কেউ নিজেদের ভাগ্য গড়তে গিয়ে সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“আমরা বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করেছিলাম—আমরা ছিলাম মজলুম, যেন কোনো অবস্থাতেই জালিম না হই।”
ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, জামায়াতের ইশতেহার হবে জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, শান্তিবান্ধব ও শৃঙ্খলাবান্ধব।জামায়াতের ইশতেহারে যে ২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার ‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’ স্লোগানের আলোকে ঘোষিত ইশতেহারে উল্লেখযোগ্য অগ্রাধিকারগুলো হলো—
স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন
বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ
যুবকদের ক্ষমতায়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অগ্রাধিকার
নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র
মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ বাংলাদেশ গঠন
প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ প্রতিষ্ঠা
প্রযুক্তি, কৃষি, শিল্প ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান
সরকারি চাকরিতে বিনা মূল্যে আবেদন ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ
ব্যাংকসহ আর্থিক খাত সংস্কার ও বিনিয়োগবান্ধব স্বচ্ছ অর্থনীতি
সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিসহ সুষ্ঠু নির্বাচন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ
কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষকদের সহায়তা বাড়িয়ে কৃষি বিপ্লব
২০৩০ সালের মধ্যে ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ
‘
তিন শূন্য ভিশন’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়া
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বিকাশ ও ব্যাপক শিল্পায়ন
শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ
প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সব অধিকার নিশ্চিতকরণ
সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়ে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা
আধুনিক ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং দরিদ্রদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা
শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার ও পর্যায়ক্রমে বিনা মূল্যে শিক্ষা
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মৌলিক চাহিদার নিশ্চয়তা
যোগাযোগব্যবস্থার আমূল সংস্কার ও রাজধানীর সঙ্গে বিভাগীয় শহরের দূরত্ব কমানো
স্বল্প ও মধ্যবিত্তের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন
ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনর্জন্ম রোধে চলমান বিচার ও সংস্কার অব্যাহত রাখা
সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা
