
পাবনায় এক নবম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ক্ষোভে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে সেই আগুন নেভাতে গিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও অন্তত ৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ও মরদেহ উদ্ধার
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন নিখোঁজ হয় পাবনা শহরের কাশেম প্রামানিকের ছেলে নাঈমের সাথে প্রেমের সম্পর্ক থাকা ওই স্কুলছাত্রী। ২ জুন সে নাঈমের বাড়িতে গেলে দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নাঈম তাকে গলা টিপে হত্যা করে। এরপর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নাঈম তার দুই বন্ধু ইয়াসিন শেখ ও তুহিন প্রামানিককে ডেকে আনে। তারা মরদেহটি প্লাস্টিকের বস্তায় বন্দি করে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে করে নিয়ে পদ্মা নদীতে ফেলে দেয়।
পরদিন বুধবার (৩ জুন) পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর এলাকায় পদ্মা নদী থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত নাঈমসহ তার দুই সহযোগীকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জব্দ করা হয়েছে লাশ গুমে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি।
ক্ষোভের আগুনে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ
গত ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) নিহত ছাত্রীর দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই স্থানীয় উত্তেজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে চড়াও হয় এবং অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় বাড়িতে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে আশেপাশের অন্তত ১০ জন গুরুতর দগ্ধ হন।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু
ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় প্রথমে একজনের মৃত্যু হয়। এরপর মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে আরও দুজন শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
