
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আগামী অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার একটি ‘ছায়া বাজেট’ বা বিকল্প বাজেট রূপরেখা পেশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা।
রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান এই বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনাটি গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।
বাজেট উপস্থাপনের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন জামায়াত আমির। বিগত নির্বাচন ও গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে বা ধোঁকা দেয়, তবে রাজনীতির ওপর মানুষের আস্থা হারিয়ে যায়। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে দেশের আর্থিক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক এবং গণমাধ্যমসহ সব গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এমনকি সমাজের অপরাধী ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের কল্যাণকে সামনে রেখে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
“এই বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। এই গুণগুলো না থাকলে সরকারের দেওয়া কোনো বাজেটই সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।”
দেশের প্রচলিত ‘অর্থবছর’ (জুলাই-জুন) পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এনে তিনি বলেন, জুন মাসে সাধারণত দেশ বন্যা, খরা বা সাইক্লোনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত থাকে। ফলে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) একটি বিশাল অংশ তড়িঘড়ি করে মে ও জুন মাসে শেষ করার চেষ্টা করা হয়, যা মূলত জনগণের অর্থের অপচয় বা লুটপাটের সুযোগ তৈরি করে। এই ক্ষতি এড়াতে তিনি ফিসকাল ইয়ার বা অর্থবছরকে প্রচলিত ক্যালেন্ডার ইয়ারের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) সাথে মিলিয়ে নির্ধারণ করার জন্য সংসদের কাছে প্রস্তাব রাখার কথা জানান, যাতে বর্ষার পানিতে দেশের উন্নয়ন তহবিল ভেসে না যায়।
