
টাংগাইল জেলা প্রতিবেদক:
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার টেলকি গ্রামে পরিত্যক্ত একটি কূপে পড়ে যাওয়া ছাগলের বাচ্চা উদ্ধার করতে গিয়ে একই পরিবারের চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সকালে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- টেলকি গ্রামের বাবুল হাদিমা, তার শিশু ছেলে নেইমার ম্রং, এবং তাদের স্বজন রতন নকরেক ও গাবরিয়েল নকরেক।
স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, সকালে একটি ছাগলের বাচ্চা গ্রামের একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যায়। ছাগলটিকে উদ্ধারের জন্য প্রথমে শিশু নেইমার ম্রং কূপে নামে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে অচেতন হয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, কূপের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস ও অক্সিজেনের স্বল্পতার কারণে সে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য তার বাবা বাবুল হাদিমা দ্রুত কূপে নামেন। কিন্তু তিনিও কূপের ভেতরে আটকা পড়ে অচেতন হয়ে যান। পরে একে একে রতন নকরেক ও গাবরিয়েল নকরেক উদ্ধার অভিযানে নামলে তারাও একইভাবে কূপের ভেতরে প্রাণ হারান।
খবর পেয়ে মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর চারজনের মরদেহ কূপ থেকে উদ্ধার করা হয়।
মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের সাব-স্টেশন কর্মকর্তা লাভলু তরফদার জানান, পরিত্যক্ত কূপটি প্রায় ৯ থেকে ১০ ফুট গভীর ছিল। দীর্ঘদিন ব্যবহৃত না হওয়ায় এর ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অক্সিজেনের অভাব ও বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই ধারাবাহিকভাবে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বাবা-ছেলে রয়েছেন এবং অপর দুইজন তাদের নিকটাত্মীয়।
ঘটনার পর পুরো টেলকি গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং নিহত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিত্যক্ত কূপ, ট্যাংক বা গভীর গর্তে নামার আগে সেখানে পর্যাপ্ত অক্সিজেন রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের দুর্ঘটনা মুহূর্তেই প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে।
