
হাসনাতুজ্জামানঃ
অভিনেত্রী তানজিন তিশা প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় জামিন পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে শুনানি শেষে তিনি জামিন পান।
মামলার শুনানি শুরু হয় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে। শুনানি শেষে আদালত তানজিন তিশার জামিন মঞ্জুর করেন।
পরে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিশা। তার বিরুদ্ধে ২৭ থেকে ২৮ হাজার টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ ওঠায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
তিশার দাবি, শাড়িটি তিনি কেনেননি; সংশ্লিষ্ট ফ্যাশন পেজের পক্ষ থেকে তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। বিনিময়ে অভিনেত্রী হিসেবে শাড়িটি পরে পেজটির প্রচারণা করার কথা ছিল। তিনি জানান, শাড়িটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্টোরি দিয়েছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট পেজকে সেখানে উল্লেখও করেছিলেন।
তিশা বলেন, তার ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে মাত্র ২৭ হাজার টাকার একটি শাড়ি আত্মসাৎ বা প্রতারণার অভিযোগ ওঠা তার জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। মামলার বাদীকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না বলেও দাবি করেন।
তার ভাষ্য, বিলকিস ওয়াজি ঝিনুক নামে একজন আইনজীবী নিজেকে তার ভক্ত পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করেছিলেন। সম্মানের খাতিরে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই শাড়িটি পরে ছবি দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছিলেন তিনি। পরে সিনেমার শুটিংয়ের প্রস্তুতি ও অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে আলাদাভাবে আরও প্রচারণা করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিশা।
তিশার আইনজীবী মো. নিহার হোসেন ফারুক বলেন, শুরুতে অভিনেত্রী শাড়িটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে এর দাম জানতে চেয়েছিলেন। পরে সংশ্লিষ্ট ফ্যাশন পেজের পক্ষ থেকেই শাড়িটি উপহার দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিনিময়ে শাড়িটি পরে প্রচারণা করার অনুরোধ করা হয়েছিল।
আইনজীবীর দাবি, তানজিন তিশা ইতোমধ্যে শাড়িটি পরে ছবি ও স্টোরি প্রকাশ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট পেজকে ট্যাগ করেছেন। প্রচারণার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়নি। সময় ও সুযোগ অনুযায়ী আরও প্রচারণা করার কথা থাকলেও এর আগেই মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শুনানিতে শাড়ির প্রচারণা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও নথি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তিশার আইনজীবী।
সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটের দিকে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন তানজিন তিশা।
