
রোমান মিয়াজী, দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় মাদক, চুরি-ডাকাতি, কিশোর অপরাধ, সড়ক নিরাপত্তা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনগণের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরীন আক্তার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক ইসলাম নাহিদ আহমেদ এবং দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম। এছাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি লতিফ ভূঁইয়া, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শামসুল হক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপজেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গড়তে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মাদক ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সব স্তরের মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও নাছরীন আক্তার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জানান, মাদক, চুরি, ডাকাতি ও কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত বক্তারা জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং প্রশাসনের চলমান কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে বিভিন্ন বাস্তবমুখী প্রস্তাব তুলে ধরেন। সভা শেষে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
