মাসুদুল করিম, তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে চলেছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি।

সরেজমিনে উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের শ্যাম্বুপুর এলাকায় দেখা যায়, মেহনাজ মীম কলেজের উত্তরে বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে গভীর রাতে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। রাতভর ড্রেজার চালিয়ে ভোর হওয়ার আগেই পাইপ খুলে ফেলে প্রমাণ গোপনেরও চেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী আবুল কালামসহ সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা এই চক্রকে নীরব সমর্থন দিয়ে আসছেন। এতে করে প্রশাসনের নজরদারি থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগে আরও জানা যায়, পাশ্ববর্তী মুরাদনগর উপজেলার ডালিম, শহিদসহ ছালিয়াকান্দি গ্রামের কয়েকজন এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে আশপাশের ফসলি জমি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জমি দেবে যাওয়া, মাটির উর্বরতা নষ্ট হওয়া এবং কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে দিন দিন। এছাড়া ড্রেজারের বিকট শব্দে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে পড়ছে, ব্যাহত হচ্ছে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রভাবশালী এই চক্রের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন তারা। তাদের দাবি, প্রশাসনের কিছু ব্যক্তিকে ‘ম্যানেজ’ করেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালানো হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ড্রেজার শ্রমিক শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন,“এটা আমাদের জায়গা, আমরা মাটি কাটছি—কেউ কিছু করতে পারবে না।”
অন্যদিকে অভিযুক্তদের একজন ডালিম দাবি করেন,
“আমরা কবরস্থানের জন্য মাটি নিচ্ছি। অন্য কোথাও দিলে সেটাও নিয়ম মেনেই করব।”
তবে স্থানীয়রা এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন। তাদের মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত বালু লুটের সিন্ডিকেট, যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তারা অবিলম্বে অবৈধ ড্রেজার অপসারণ, বালু উত্তোলন বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
