• সোম. জুলা ২০, ২০২৬

তিতাসে কাজীর বিরুদ্ধে কাবিন জালিয়াতির অভিযোগ

ByShirso aparadh

জুলা ১৯, ২০২৬

কুমিল্লা প্রতিনিধি-
তিতাসে ভালোবাসায় পরিণত হওয়া একটি সংসার ও সামাজিক বিয়েকে ঘিরে এবার উঠেছে কাবিননামা জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ। কাবিননামায় তথ্য বিকৃতি, অতিরিক্ত মোহরানা এবং জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তথ্য গোপন করে কাবিননামা লিপিবদ্ধ করার অভিযোগ এনে কুমিল্লার তিতাস উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী এক বর।
রোববার (১৯ জুলাই) সকালে তিতাস উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. শরিফুল ইসলামের কাছে এ অভিযোগ করেন উপজেলার সাতানী ইউনিয়নের মঙ্গলকান্দি গ্রামের মো. শাহজালাল মোল্লার ছেলে প্রবাসী ফেরত সাঈদ মোল্লা (২৯)।
অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে উপজেলার ওপরপুর গ্রামের (বর্তমান মাছিমপুর (বদুরবাগ থাকে) মৃত তারা মিয়ার ছেলে কথিত কাজী মো. ইয়াকুব আলী (৫০), মঙ্গলকান্দি গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে মো. আবু বকর (৩০) ও মৃত হাবিবুল্লাহর ছেলে নিকাহ রেজিস্ট্রার মোঃ শফিউল্লাহ (৫৮)সহ আরও অজ্ঞাতনামা ২ থেকে ৩ জনকে।
লিখিত অভিযোগে সাঈদ মোল্লা উল্লেখ করেন, গত ২০২৩ সালের ২০জুলাই মঙ্গলকান্দি গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর স্ত্রী অমলা খাতুনের ঘটকালীতে হোমনার মাথাভাঙ্গা ইউনিয়নের মাহিষমারী গ্রামে মোঃ রিপন ভূঁইয়া, মঙ্গলকান্দি গ্রামের আছমা আক্তার, আবু বকর, সাতানি গ্রামের মনু মোল্লার ছেলে মোঃ আঃ হালিম মোল্লাসহ ২০-৩০জন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে কনের ২লাখ টাকা দেনমোহর ও ২হাজার টাকা উসুল মূলে বরের পিতা কাজী ইয়াকুব আলী ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে সম্পন্ন করেন। বিয়ের সময় দেনমোহর পরিশোধ বাবদ বরের পক্ষ থেকে ৪ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কারও কণেকে প্রদান করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিয়ের কয়েক মাস পর জীবিকার প্রয়োজনে তিনি বিদেশে (কম্বোডিয়া) চলে যান এবং তাদের সংসারে শাহজাদ মোল্লা নামে ২৩মাসের একটি সন্তানও আছে। বিদেশে থাকাবস্তাতেই ভুক্তভোগী যুবক সাইদ মোল্লা তার শ্বশুরের নিকট জানায়, সে স্ত্রীকে বিদেশে তার কাছে নিয়ে যাবেন, সে জন্য পাসপোর্ট ও কাবিনের কাগজপত্র সাঈদ মোল্লার নিকট বিদেশে পাঠানোর জন্য। কিন্তু তিনি নানাহ অজুহাতে পাসপোর্ট বা কাবিননামা কিছুই প্রদান করেনি।
পরবর্তীতে বর সাঈদ মোল্লা ৫ফেব্রুয়ারী ২০২৬ সালে বাংলাদেশে এসে এসব বিষয়াদি নিয়ে সংসারে মনোমালিন্য হলে বিষয়টি সামাজিক শালিস ও আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এরপর বেড়িয়ে আসে থ়ের বিড়াল।
আদালতে দায়ের করা অভিযোগের নথি থেকে কাবিননামার অনুলিপি অনুযায়ী দেখা যায় ১২লাখ টাকা দেনমোহর ও ২০হাজার টাকা উসুল এবং বিবাহ সম্পাদনের তারিখ ১৪ জানুয়ারী ২০২৫ সাল।
অভিযোগকারী যুবক সাঈদ মোল্লা বলেন, আমি ২০২৩ সালের ২০জুলাই ঘটা করে সকলকে জানিয়ে ২লাখ টাকা কাবিন দিয়ে বিয়ে করেছি। একই বছরের ৩১ডিসেম্বর কম্বোডিয়া চলে যায় এবং প্রায় ৩বছন সেখানে চাকুরী শেষে ৫ফেব্রুয়ারী ২০২৬সালে দেশে আসি। তাহলে ২৫সালে আমি কিভাবে কাবিনে স্বাক্ষর করে বিয়ে করলাম-আর ২৫সালে বিয়ে করলে আমার সন্তানের বয়স এখন ২৩মাস হয় কি করে? আপনাদের কাছে জানতে চাই।
ঘটক অমলা খাতুন জানান, উভয় পরিবারের পছন্দ হওয়ায় বিয়ে হইছি,-দুই লাখ টাকা কাবিন দিছে সবাই জানে। এখন বাটপারী করতাছে মেয়ের বাবা লোভে পড়ে।
মোঃ রিপন ভূঁইয়া বলেন, মানুষ বাটপারী করে ঠেহায় পইরা, কিন্তু মেয়ের জামাইর সাথে এত বড় বাটপারী জীবনে প্রথম দেখলাম। বিষয়টি তদন্ত করে মেয়ের বাবা কাজী ইয়াকুবের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে দাবি জানান তিনি।
কাবিনে স্বাক্ষর করা এবং অভিযোগে অভিযুক্ত আবু বকর বলেন, কাবিনে কোন জালিয়াতি হয় নাই। বিয়েও সঠিক, কাবিনও সঠিক। বাকিটা সময়েই বুৃজা যাবে। তবে নিউজ না করার জন্য তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন।
জানতে চাইলে কণ্যার পিতা নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী ইয়াকুব আলীকে ফোন দিলে তিনি মিটিং আছেন জানান এবং পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন। পরে আর তিনি কোন কথা বলেন নি।
অভিযোগের বিষয়ে তিতাস উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. শরীফুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়ে রিসিভ করেছি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসী ও চায়ের দোকানে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সবাই দাবি করেন, কাজী ইয়াকুবের সাতানী ইউনিয়নের নির্দিষ্ট কিছু গ্রামের দায়িত্বে থাকলেও সে মোটা অংকের টাকার লোভে বাল্য বিয়েসহ বিভিন্ন জালিয়াতির মাধ্যমে জগতপুর ইউনিয়নের বেশকিছু গ্রামের এসব কাবিন রেজিস্ট্রি করেন। এসব বিষয় খতিয়ে তাক আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সুশিল সমাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights