নিজস্ব প্রতিবেদক: ঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গ্রাম পুলিশদের পোশাক, বাইসাইকেল ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি সরবরাহ সংক্রান্ত দরপত্র প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রের সুস্পষ্ট শর্ত ভঙ্গ করেও একটি প্রতিষ্ঠানকে “রেসপন্সিভ টেন্ডার” হিসেবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে, যা নিয়ে অন্যান্য ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে গ্রাম পুলিশের পোশাক, বাইসাইকেল ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি ক্রয়ের লক্ষ্যে একটি দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রের ৬ নম্বর শর্তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে সকল নমুনা সরাসরি টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে।এই শর্তের কারণে “সৌখিন”, “সেঙ্গুইন”সহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের ভাষ্য, স্বল্প সময়ের মধ্যে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলে নমুনা পৌঁছানো সম্ভব নয় বুঝেই তারা দরপত্র দাখিল থেকে বিরত থাকেন।তবে অভিযোগ রয়েছে, “মেসার্স তানিয়া” নামের একটি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নমুনা টাঙ্গাইলে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলেও পরবর্তীতে বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে তাদের নমুনা টাঙ্গাইলে আনা হয়।সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অফিসিয়াল কাজে ঢাকায় আসা এক অফিস সহায়ক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পোশাক, বাইসাইকেল ও অন্যান্য সরঞ্জামাদির নমুনা সরকারি রিকুইজিশন করা গাড়িতে করে টাঙ্গাইলে নিয়ে যান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন ঠিকাদার নমুনা পরিবহনের কারণ জানতে চাইলে ওই অফিস সহায়ক জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিশেষ নির্দেশেই নমুনাগুলো ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলে নেওয়া হচ্ছে।এ ঘটনায় দরপত্রে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য ঠিকাদার আপত্তি জানালে ওপেনিং কর্মকর্তা মৌখিকভাবে সবাইকে আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, “দরপত্রের শর্ত ভঙ্গ করে কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না। নিয়মবহির্ভূত কোনো দরপত্র গ্রহণ করা হবে না এবং প্রয়োজন হলে তা বাতিল করা হবে।”কিন্তু পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, শর্ত ভঙ্গের পরও “মেসার্স তানিয়া” প্রতিষ্ঠানের দরপত্রকে “রেসপন্সিভ টেন্ডার” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।এ বিষয়ে এক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট ডিডিএলজি (উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার) ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশেষভাবে সহানুভূতিশীল। তার দাবি, ডিডিএলজি পূর্বে ফরিদপুরে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং সেই সূত্রে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে পূর্ব পরিচিতি থাকতে পারে। যদিও এ সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখন পর্যন্ত অনুসন্ধানী টিমের হাতে আসেনি।অন্যদিকে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ডিডিএলজি দাবি করেন, তিনি পূর্বে কখনো ফরিদপুরে কর্মরত ছিলেন না এবং সেখানে কোনো দায়িত্বও পালন করেননি।তবে ঠিকাদারদের একাংশের অভিযোগ, কোনো পূর্ব সম্পর্ক, প্রভাব কিংবা আর্থিক লেনদেন ছাড়া একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের বিশেষ সুবিধা দেওয়া সম্ভব নয়। তাদের দাবি, অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে এমন সুযোগ দেওয়া হয়নি, অথচ “মেসার্স তানিয়া”কে বিধি বহির্ভূতভাবে সহায়তা করা হয়েছে।ঠিকাদারদের প্রশ্ন, দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী নমুনা সরাসরি টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কীভাবে সরকারি গাড়িতে করে একটি প্রতিষ্ঠানের নমুনা পরিবহন করা হলো এবং পরে সেই দরপত্রকে বৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হলো?সরেজমিন অনুসন্ধানে ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক-এর প্রতি ঠিকাদার মহলের ব্যাপক আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। তাদের অনেকেই মনে করেন, প্রকৃত ঘটনা জেলা প্রশাসকের কাছে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হলে তারা ন্যায্য বিচার পাবেন।এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারীরা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
