স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা
৩ জুন, ২০২৬
রাজধানীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সাংবাদিক নার্গিস জুঁইয়ের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিএমএম কোর্টের ৪র্থ তলার ৬ নম্বর আদালতের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক নিজেই বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা হামলাকারীর বিরুদ্ধে রাজধানীর কোতোয়ালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগীর ধারণা, বাবার কিনে দেওয়া পৈত্রিক সম্পত্তি গ্রাস করতে তার ভাসুররা (স্বামীর বড় ভাইয়েরা) ভাড়াটে ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসী দিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে এই পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে।
যেভাবে ঘটল আদালত প্রাঙ্গণে হামলা
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে সিএমএম কোর্টে অবস্থান করছিলেন সাংবাদিক নার্গিস জুঁই। বেলা আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিটে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি আদালতের সামনে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে জোরালো ধাক্কা দেয়। নার্গিস জুঁই এর প্রতিবাদ করলে ওই ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রকাশ্য আদালতে অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।
একপর্যায়ে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই ব্যক্তি সাংবাদিক জুঁইকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। হামলায় তার মুখমণ্ডল ও নাকে প্রচণ্ড আঘাত লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত হন। এতে তার একটি দাঁত নড়ে গেছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারী আরও বেপরোয়া হয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে জুঁইয়ের স্বামী এসে তাকে উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি থানায় হাজির হন।
হামলার নেপথ্যে ভাসুরদের জমি দখল ও দীর্ঘদিনের নির্যাতন
সাংবাদিক নার্গিস জুঁই জানান, বাবার কিনে দেওয়া জমিজমা ও ফ্ল্যাট নিয়ে তার স্বামীর বড় ভাইদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে, যা সাংবাদিক সমাজও অবগত। তিনি অভিযোগ করেন, তার ভাসুররা মূলত নির্মম, হিংস্র, দখলবাজ ও ভূমিদস্যু প্রকৃতির। বিগত ৫ জুলাই, ২০২০ সালে ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসীদের সহায়তায় তাদের ঘরে তালাবদ্ধ করে গান পাউডার ছিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। সে সময় সাংবাদিকরা থানা থেকে পুলিশ নিয়ে তাদের উদ্ধার করেন এবং তারা প্রায় তিন মাস বাসায় অবরুদ্ধ ছিলেন।
জুঁই আরও অভিযোগ করেন,
”স্বামীর ভাইয়েরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ইতোমধ্যে আমার একটি ফ্ল্যাট দখল করেছে। বাকিগুলো দখল করার জন্য যখন-তখন হামলা চালায়। গত ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখেও একদল সন্ত্রাসী ও দখলবাজ পাঠিয়ে আমার ২য় তলার ফ্ল্যাটটি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়।”
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে তাদের নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি বাসার দারোয়ান ও ভাড়াটিয়াদের লেলিয়ে দিয়ে তাদের খুনের উদ্দেশ্যে নিয়মিত নির্যাতন ও নারী উত্ত্যক্তের মতো নোংরা গালিগালাজ করা হয়। আত্মীয়-স্বজন কেউ বাসায় আসলে তাদেরকেও হত্যার হুমকি ও মামলার ভয় দেখানো হয়। যেকোনো সময় তারা সপরিবারে খুনের শিকার হতে পারেন বলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সমঝোতা প্রত্যাখ্যান ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
জুঁই জানান, এই উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক নেতা, স্থানীয় পঞ্চায়েত ও পারিবারিকভাবে একাধিকবার বসার চেষ্টা করা হলেও প্রতিপক্ষ কোনো সমঝোতায় আসতে রাজি হয়নি। উল্টো দিন দিন তাদের আচরণ আরো বেপরোয়া ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে।
এমতাবস্থায়, আদালত প্রাঙ্গণে নিজের ওপর হওয়া হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও অজ্ঞাতনামা আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নার্গিস জুঁই। একই সাথে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এবং এই ধারাবাহিক নিপীড়ন-হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে সাংবাদিক সমাজ, প্রশাসন ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কোতোয়ালী থানা পুলিশ জানিয়েছে, সাংবাদিকের ওপর হামলার লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দোষীকে শনাক্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
