শাব্বির আহমদ, জেলা প্রতিনিধি (খুলনা):
খুলনার ফুলতলা উপজেলায় তিন বছরের এক অবুঝ শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার এক জঘন্য ও ধিক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত লম্পট ও পাশবিক মানসিকতাসম্পন্ন যুবক আলমকে (২৫) স্থানীয় জনতা হাতেনাতে আটক করেছে। অভিযুক্ত আলম স্থানীয় সুপার জুট মিলের কর্মচারী এবং ফুলতলা এম. এম. কলেজের পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, উত্তেজনা ও নিন্দার ঝড় বইছে।
যেভাবে প্রকাশ পায় ঘটনা
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুলতলা উপজেলার তরতীপুর গ্রামে শিশু আনিকার (৩) পিতা সবুজ ঘটনার দিন কর্মস্থলে ছিলেন। এ সময় শিশুটিকে একা পেয়ে লম্পট আলম তার ওপর পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। অবুঝ শিশুটির আকস্মিক কান্নাকাটি ও চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এলে বিষয়টি প্রকাশ পায় এবং স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত আলমকে আটক করে।
ন্যায়বিচারের দাবিতে উত্তাল এলাকা
এই জঘন্যতম ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিশু আনিকার মা। বুকফাটা আর্তনাদ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন:
“আমার তিন বছরের অবুঝ ও নিষ্পাপ শিশুর ওপর যে হাত দিতে পেরেছে, সে পৈশাচিক নরপশু। এই সমাজের বুকে এমন অপরাধীর বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, এই ধর্ষকের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয় এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা হয়।”
এদিকে তরতীপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একটি তিন বছরের শিশু যে কি না ভালো-মন্দ কিছুই বোঝে না, তার ওপর এমন পাশবিক চেষ্টা সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের চরম সীমা নির্দেশ করে। এলাকাবাসী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে যদি পুলিশ প্রশাসন এই জুট মিল কর্মচারীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করে, তবে তারা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
সচেতন মহলের আহ্বান
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর জোর দাবি, কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবের তোয়াক্কা না করে এই পৈশাচিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং অভিযুক্ত আলমকে দ্রুত কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করতে হবে।
একটি সভ্য সমাজে এমন জঘন্য অপরাধের কোনো স্থান হতে পারে না। শিশু আনিকার পরিবার এবং সমগ্র ফুলতলাবাসীর এখন একটাই দাবি—লম্পট আলমের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোরতম শাস্তি, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো নিষ্পাপ শিশুর দিকে কোনো অপরাধী এভাবে চোখ তুলে তাকানোর সাহস না পায়।
