শেখ ফরিদ উদ্দিন :
কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা জোরদারের আশ্বাস দিয়েছে । আজ ও জাপানের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক রাজধানীর খামারবাড়িস্থ -এ অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে জাপান আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদার এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে। একইসঙ্গে, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। আলোচনায় জাপানের বিখ্যাত রপ্তানি ও হালাল খাদ্য খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ও উঠে আসে।
এছাড়া, টেকসই কৃষি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ এবং যৌথ ঋণ ব্যবস্থা (জয়েন্ট ক্রেডিট মেকানিজম)-এর আওতায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উন্নত কৃষি গবেষণায় সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। বিশেষ করে জিনোমিক্স ও ফেনোমিক্সভিত্তিক স্পিড ব্রিডিং প্রযুক্তি এবং সবজি বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। পাশাপাশি আম ও হিমায়িত খাদ্যসহ বাংলাদেশি কৃষিপণ্যের আমদানি বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
বাংলাদেশ কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তি—ড্রোন, বিগ ডাটা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে জাপানের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে। একই সঙ্গে কাঁঠাল ও আম প্রক্রিয়াজাতকরণ (ড্রাই ফুড) খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়। গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ড নিশ্চিতকরণকেও সম্ভাবনাময় সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বৈঠকে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষি। কৃষির আধুনিকায়ন, যান্ত্রিকীকরণ, ভ্যালু চেইন উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল চর্চা এগিয়ে নিতে জাপানের সহযোগিতাকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। জাপানের দক্ষতা, উদ্ভাবন ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।”
বৈঠকটি টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকারের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই. মোহামেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জাপান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য বিষয়ক মন্ত্রী । প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সচিব তানাকা তাতসুআকি, নিসাকা মাকোতো এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি।
