• মে ১৯, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

সোনালী ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছ থেকে আদায় ৭৪৫ কোটি টাকা, পরিচালন মুনাফায় রেকর্ড

Byadmin

জানু. ১৩, ২০২৬

মাসুদ সালেহ উদ্দিন, নিজস্ব প্রতিবেদক:
বছরের ব্যবধানে বড় ধরনের মূলধন ঘাটতি কাটিয়ে পরিচালন মুনাফায় নতুন রেকর্ড করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ অর্থবছরে ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি।

মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি ও সিইও) মো. শওকত আলী খান।এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মো. রেজাউল করিম, মো. নূরুন নবী, মোহাম্মদ শাহজাহান; পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ড. আসিফ নাইমুর রশিদ, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমসহ পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ব্যাংকের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা (সিএফও) ইকবাল হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালে সোনালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল ৫ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা। তবে এক বছরের ব্যবধানে সেই ঘাটতি কাটিয়ে ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকের মূলধন উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি টাকা।

ব্যাংকের এমডি মো. শওকত আলী খান বলেন, প্রভিশন সংরক্ষণের পরও ব্যাংকের নিট মুনাফা এক হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে। দীর্ঘদিনের মূলধন ঘাটতির অপবাদ থেকে বেরিয়ে আসা ব্যাংকের জন্য এটি একটি বড় অর্জন।
খেলাপি ঋণ আদায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গত বছরে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির কাছ থেকে ৭৪৫ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে হলমার্ক গ্রুপ থেকেই আদায় হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। বাকি অর্থ আদায়ে তাদের যন্ত্রপাতি ও সম্পদ নিলামের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সব মিলিয়ে ২০২৫ সালে খেলাপি গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ আদায় হয়েছে ১ হাজার ২০৩ কোটি টাকা। নিয়মিত যোগাযোগ, আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুনঃতফসিল কার্যক্রমের মাধ্যমে ঋণ আদায় জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৫২ শতাংশে। ২০২৬ সালের মধ্যে এটি ১১ থেকে ১২ শতাংশে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে এক অঙ্কে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ব্যাংকের ক্যাপিটাল অ্যাডেকোয়েসি রেশিও (Capital Adequacy Ratio – CAR) বর্তমানে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ১০ শতাংশের চেয়েও বেশি রয়েছে, ফলে ভবিষ্যতে ব্যাংকের ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানান এমডি।
সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকের বড় অঙ্কের পাওনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এমডি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে এলসি পরিচালনার বিপরীতে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার কমিশন এখনো পাওনা রয়েছে। এই অর্থ আদায় হলে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

সোনালী ব্যাংকের প্রতি জনগণের আস্থা এখনও দৃঢ় উল্লেখ করে শওকত আলী খান বলেন, আমানতের প্রবাহ বাড়লেও ঋণ বিতরণে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি না হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights