• সোম. আগ ১৭, ২০২৬

Daily Shirso Aparadh

ঘটনার অন্তরালের সত্য উদ্‌ঘাটনে

রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকার বকেয়া আটকে রাখার অভিযোগ

ByShirso Aparadh

জুন ২৪, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার সায়েদাবাদে অবস্থিত -এর অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত স্থায়ী সহকারী অধ্যাপক হাসিনা আক্তার তাঁর ন্যায্য বকেয়া পাওনা আদায়ের দাবিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হয়েছেন। গত ২০ জুন ২০২৬ তারিখে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে কলেজের অধ্যক্ষ উৎপল পাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বকেয়া অর্থ আটকে রাখা এবং বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আবেদন সূত্রে জানা যায়, হাসিনা আক্তার দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করার পর ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ সালে স্বাভাবিক অবসরে যান। বর্তমানে তিনি আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। অর্থসংকটের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এ অবস্থায় চাকরিকালীন প্রাপ্য বাড়িভাড়া ও বকেয়া বেতন তাঁর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, অবসরের প্রায় তিন বছর পার হলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁর পাওনা পরিশোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। কলেজ প্রশাসনের কাছে তাঁর বাড়িভাড়া ও বকেয়া বেতন বাবদ মোট ৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

হাসিনা আক্তার তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন, বকেয়া অর্থ পরিশোধের জন্য তিনি একাধিকবার অধ্যক্ষ উৎপল পাল চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি। তাঁর দাবি, তিনি অধ্যক্ষের রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি ও নারী সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ছিলেন বলেই তাঁর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। তাঁর আগে, সমসাময়িক সময়ে কিংবা পরে অবসরে যাওয়া অন্যান্য শিক্ষকদের পাওনা পরিশোধ করা হলেও কেবল তাঁর অর্থ আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিবেদককে জানান, কলেজ তহবিলে অর্থের সংকট রয়েছে বলে অধ্যক্ষ উৎপল পাল চৌধুরী তাঁকে অবহিত করেছেন। ফলে বর্তমানে হাসিনা আক্তারের পাওনা পরিশোধে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অধ্যক্ষ উৎপল পাল চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব -এর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আবেদনটি এখনো তাঁর কাছে উপস্থাপন করা হয়নি। আবেদন হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights