
নিজস্ব প্রতিবেদক :
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব কটি বিমানবন্দরে দুর্নীতি, চোরাচালান ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শনাক্ত করার অভিযান শুরু করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। গত পাঁচ বছরে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।
বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, শুধুমাত্র তাদের নিজস্ব কর্মী নয়, বিমানবন্দরে দায়িত্বরত অন্যান্য সংস্থার সদস্যদেরও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে দেশের সব আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে চিঠি পাঠিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেবিচকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ‘গত কয়েক বছরে বড় বড় চোরাচালানের ঘটনায় অভ্যন্তরীণভাবে কিছু লোকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত করে আলাদা করে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ৩০ জনের নাম পাওয়া গেলেও তদন্ত শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা বাড়তে পারে।’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিমানবন্দরে একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। পদোন্নতি বা বদলির মাধ্যমে অনেকেই দায়িত্বস্থল পরিবর্তন করলেও তাদের অপরাধমূলক তৎপরতা বন্ধ হয়নি। কেউ কেউ প্রভাব খাটিয়ে আগের তদন্ত এড়িয়ে গেলেও এবার তাদের সম্পূর্ণ কার্যক্রম নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে।
বিশেষ করে আগমনী গেট, কার্গো টার্মিনাল, লাগেজ হ্যান্ডলিং এলাকা ও স্ক্যানিং পয়েন্টে দায়িত্বে থাকা কিছু কর্মচারীর ভূমিকা সন্দেহজনক বলে মনে করছে তদন্তকারী দল। অভিযুক্তদের মধ্যে বেবিচক, কাস্টমস, এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, আনসার ও বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীরাও রয়েছেন।
সূত্র জানায়, বর্তমানে শনাক্ত ৩০ জনের মধ্যে রয়েছেন—এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্সের ৮ জন
আর্মড ব্যাটালিয়ন পুলিশের ৪ জন
সিকিউরিটি গার্ড ৪ জন
বিমানের ৩ জন কর্মী
আনসারের ২ জন
কাস্টমসের ২ জনসহ অন্যান্য কর্মী
তদন্তের স্বার্থে এখনো কারও নাম প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। লোডার ও কর্মীরা মালামাল খালাসের সময় পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ শাখা থেকেও বিভিন্ন সময় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। চোরাকারবারিরা সোনা পাচারে অভিনব কৌশল ব্যবহার করছে—জুতা, বেল্ট, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, খাবারের প্যাকেট, এমনকি কাপড়ের সঙ্গেও সোনা গুঁড়া মিশিয়ে পাচার করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সোনার ওপর অন্য ধাতুর প্রলেপ দিয়ে স্ক্যানার ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
বেবিচক বলছে, এবারের অভিযান আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর ও পরিকল্পিত। ভিডিও ফুটেজ, লিখিত অভিযোগ, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য এবং প্রশাসনিক নথি বিশ্লেষণ করে পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিমানবন্দরের কার্গো হাউস থেকে মোবাইল চুরির সময় এক আনসার সদস্যকে আটক করা হয়। ঘটনার পরপরই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বেবিচক জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনা আর যেন না ঘটে সে লক্ষ্যে কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
