নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে আগামী দিনে বাংলাদেশে কোনো মানুষ বেকার থাকবে না। বিভিন্ন খাতে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা হবে। একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো সরকারপ্রধান হকারদের উচ্ছেদ না করে তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।
সোমবার (১ জুন ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিএনপির অবদান
রুহুল কবির রিজভী তার বক্তব্যে দাবি করেন, বিএনপি কখনোই দেশে বেকারত্ব তৈরি করেনি, বরং সবসময় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়েছে। তিনি বলেন:
- বৈদেশিক কর্মসংস্থান: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের দুয়ার খুলেছিল। আজ এক কোটিরও বেশি প্রবাসী রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতি সচল রাখছেন।
- গার্মেন্টস খাত ও নারী ক্ষমতায়ন: তৈরি পোশাক শিল্পে নারীদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য। এই খাতের মাধ্যমেই দেশের নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয়েছে।
- উদ্যোক্তা তৈরি: কৃষি এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে বিভিন্ন সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে দেশে অসংখ্য নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করেছে বিএনপি সরকার।
হকার পুনর্বাসন ও ফ্যামিলি কার্ড উদ্যোগ
বর্তমান সরকারের মানবিক পদক্ষেপগুলোর প্রশংসা করে রিজভী বলেন, একজন হকারের আয়ের ওপর পুরো একটি পরিবারের জীবিকা নির্ভর করে। তাই হকারদের উচ্ছেদ না করে তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের অসহায়, দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে, যেখানে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্মরণ
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষির উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, মানুষের মাঝে আত্মনির্ভরশীলতা বাড়াতে জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দেশ গড়ার ডাক দিয়েছিলেন। শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা ও খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে তিনি দেশজুড়ে ১,৬০০ মাইল দীর্ঘ খাল খনন করেছিলেন। এর ফলে শুধু কৃষি উৎপাদনই বাড়েনি, গ্রামীণ মৎস্য চাষেরও ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল।
বিগত সরকারের সমালোচনা ও অর্থ পাচারের অভিযোগ
বক্তব্যের শেষ অংশে আওয়ামী লীগ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তীব্র সমালোচনা করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ১৬ বছরে দেশের অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা, তার আত্মীয়-স্বজন এবং দলীয় লোকজন বিভিন্ন প্রকল্পের নামে দেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন।
অধ্যাপক আশফাকুল ইসলাম মনুর সভাপতিত্বে এবং অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু।
