• মঙ্গল. সেপ্টে ৮, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

ঘটনার অন্তরালের সত্য উদ্‌ঘাটনে

শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে নাটকীয় মোড়, ‘ডলার’ নামে নতুন ব্যক্তির নাম প্রকাশ

BySarker

জুন ১, ২০২৬

শাহাদাত হোসেন সাকু:

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তার (৮) ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় এক চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা এখন ঘটনার পুরো দায় ‘ডলার’ নামে মিরপুরের এক ধনাঢ্য ব্যক্তির ওপর চাপাচ্ছেন। সোহেলের দাবি, তিনি নিজে শিশুটিকে ধর্ষণ বা হত্যা করেননি, কেবল লাশটি ‘দুই টুকরো’ করেছেন। মূল অপরাধটি করেছেন ওই ডলার নামের ব্যক্তি।

সোমবার (১ জুন ২০২৬) ঢাকা মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন। আদালত আগামী মঙ্গলবার থেকেই এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

আদালত প্রাঙ্গণে আসামির দাবি

অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় সোহেল রানা উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী ও আইনজীবীদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলতে থাকেন:

“মিরপুর ১১ নম্বরে ডলারের বাড়ি। রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার মূল অপরাধী সে-ই। মেয়েটিকে এনে দিতে পারলে ডলার আমাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আমি শুধু লাশ কেটেছি, কিন্তু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে ডলার। সে অনেক প্রভাবশালী ও বৃত্তবান মানুষ।”

একই সাথে সোহেল রানা দাবি করেন, এই ঘটনায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং হত্যাকাণ্ডে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

মামলার প্রেক্ষাপট ও পূর্ববর্তী ঘটনা

গত ১৯ মে দুপুরে মিরপুর পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের ‘বি’ ব্লকের একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসা আক্তারের বীভৎস লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ঘটনার দিন সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। পরে ওই ভবনেরই সাবলেট ভাড়াটিয়া সোহেল ও স্বপ্নার বন্ধ ফ্ল্যাটের জানালার গ্রিল দিয়ে ভেতরে রক্ত দেখতে পান প্রতিবেশীরা। দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বাথরুমের বালতি থেকে রামিসার বিচ্ছিন্ন মাথা এবং ঘরের খাটের নিচ থেকে তার দেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার দিনই পুলিশ বাসা থেকে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করে এবং ওই সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় দুজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করার পর সোহেল আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। মাত্র ৫ দিন তদন্ত শেষ করে গত ২৪ মে আদালতে চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের বক্তব্য

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু বলেন, শিশু রামিসাকে ফুসলিয়ে ঘরে ডেকে নিয়ে বাথরুমে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে সে জ্ঞান হারালে তাকে মৃত ভেবে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে মাথা ও হাত-পা বিচ্ছিন্ন করা হয়।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দাবি করেন, পুলিশ অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে এই মামলার তদন্ত শেষ করেছে এবং কোনো প্রত্যক্ষদর্শী আদালতে হাজির করতে পারেনি। তিনি আসামিদের খালাস চেয়ে আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে দেন।

শুনানি চলাকালীন স্বপ্নার বিরুদ্ধে হত্যায় বাধা না দেওয়া এবং আলামত নষ্টের সহযোগিতার অভিযোগ পড়ে শোনানো হলে তিনি কাঠগড়াতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

নৃশংস এই শিশু হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

By Sarker

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights