ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব জোন-০৬-এ দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তাকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। বদলি বাণিজ্য, কোড বণ্টন এবং ডিমোশন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বদলি, কোড বণ্টন ও ডিমোশনকে ঘিরে প্রশ্ন; ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে উদ্বেগএ কাজে তাকে সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান এবং কয়েকজন বিলিং সহকারী—কায়সার আহম্মেদ, মো. হুমায়ন কবির, বদরুল আলম ও ফরিদ উদ্দিন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন ও কোড ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাজস্ব জোন-০৬-এ দায়িত্ব পালনরত উপ-প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এনায়েত করিমের বিরুদ্ধে নতুন নিয়োগ, বদলি, কোড বণ্টন, ডিমোশন ও চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কেউ ওই জোনে বদলি হয়ে এলে তাকে নির্দিষ্ট “সাইড” বা “কোড” পেতে অনানুষ্ঠানিকভাবে অর্থ প্রদান করতে হয়। এমনকি প্রতি মাসেও নির্দিষ্ট অংকের অর্থ প্রদানের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত শর্তে সমঝোতা না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের “সাইড” বা দায়িত্ব না দিয়ে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রাখা হয়। পরে সেই কোডগুলো অন্যদের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয় বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আরও জানা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যেখানেই বদলি হন, তার আস্থাভাজন কিছু বিলিং সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে যান এবং গুরুত্বপূর্ণ কোড বা “টপ সাইড” তাদের মধ্যে বণ্টন করেন। এতে অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজস্ব পরিদর্শকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পরে প্রশাসন বিষয়টি অবগত হলে সংশ্লিষ্ট কোড পরিবর্তন ও নথিপত্রে সংশোধন আনা হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা, যদিও বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সম্প্রতি, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকা ওয়াসায় ২৮ জন বিলিং সহকারীকে বিভিন্ন পদে ডিমোশন বা পদায়ন করা হয়। এর মধ্যে রাজস্ব জোন-০৬-এর তিনজনও ছিলেন। তাদের একজন হাসান আলীকে অন্য জোনে বদলি করা হলেও, অভিযোগ রয়েছে যে তিনি দীর্ঘ সময় আগের পদেই বহাল থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন এবং কোড পরিচালনা করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
এদিকে, আগামী ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য “ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতি” নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সভাপতি পদে প্রার্থী হতে পারেন বলে জানা গেছে, যা নিয়েও কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বিলিং সহকারীদের ডিমোশন বা চাকরিচ্যুতির আশঙ্কা দেখিয়ে জনপ্রতি ৪-৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। এই লেনদেনে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথাও বলা হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ: অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, এসব অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের হেনস্তা ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলোর স্বতন্ত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তাদের মতামত জানতে চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
