নিজস্ব প্রতিবেদক, মুন্সীগঞ্জ:
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া চার আসামিই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
আজ রবিবার (৩১ মে) সন্ধ্যা ৭টায় মুন্সীগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নিহত তরুণীর নাম হালিমা আক্তার (১৯)। তিনি গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
পরিচয় শনাক্ত ও মামলা দায়ের:
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ২৯ মে গজারিয়া নৌ পুলিশ ফুলদী নদী থেকে এক অজ্ঞাতনামা তরুণীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছায়া তদন্ত শুরু করে। মরদেহটি আংশিক পচে যাওয়ায় প্রথমে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হলেও পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সূত্রের সহায়তায় তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বোন হোসনেয়ারা আক্তার বৃষ্টি বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর পিবিআই স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।
অর্থনৈতিক লেনদেন ও অনৈতিক সম্পর্কের জেরে হত্যাকাণ্ড:
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সাথে জড়িত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—আবু কালাম (৪৮), জামাল হোসেন (৪৪), আলামিন প্রধান (৫০) ও রাসেল মিয়া (৪৪)।
পিবিআই জানায়, নিহত হালিমার কাছে আসামি আবু কালামের প্রায় ২৫ হাজার টাকা এবং রাসেলের ১০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর বাইরে, আসামি জামালের সঙ্গে ভিকটিমের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিকভাবে মানহানি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তারা হালিমাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা:
তদন্তের বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৫ দিন আগে এই চারজন মিলে হালিমাকে হত্যার ছক আঁকে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২৬ মে সন্ধ্যার পর কৌশলে হালিমাকে বড় ভাটেরচর এলাকার নদীর পাড়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখান থেকে নৌকায় করে তাকে নদীর ওপারে একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চারজন মিলে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে এবং একপর্যায়ে পরিহিত পোশাক গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে প্রমাণ লোপাট ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে তা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।
মুন্সীগঞ্জ জেলা পিবিআই-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই সফল অভিযান ও তদন্ত পরিচালিত হয়। পিবিআই জানিয়েছে, মামলার প্রাথমিক তদন্তে মূল রহস্য উদঘাটিত হলেও ঘটনার সাথে অন্য কেউ বা কোনো বিষয় জড়িত আছে কিনা, তা আরও খতিয়ে দেখতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
