• শনি. জুন ২৭, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন।

ByShirso aparadh

জুন ২৬, ২০২৬


ডেস্ক রিপোর্ট:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পৈশাচিক কায়দায় হত্যার ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পেছনে লম্পট ও মাদকাসক্ত এক যুবকের চরম প্রতিশোধপরায়ণতা কাজ করেছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে হত্যাকাণ্ডের পর উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে মূল ঘাতকও নিহত হওয়ায় এই রোমহর্ষক ঘটনার নেপথ্য রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড (দেনায়েতপুর) এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই লোমহর্ষক চার খুনের ঘটনা ঘটে।

নিহত ও অভিযুক্তের পরিচয়

রক্তাক্ত এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন একই পরিবারের চার নারী:

  • শাহিনুর বেগম (৩৮): যিনি ২০১৯ সালে স্বামী কামাল হোসেনকে হারানোর পর থেকে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন।
  • সায়মা আক্তার (২০): বড় মেয়ে, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী।
  • নাফিজা আক্তার ইকরা (১৬): মেজো মেয়ে, এসএসসি ফলপ্রত্যাশী।
  • শিফা আক্তার (৯): ছোট মেয়ে, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
    অন্যদিকে, খুনের পর গণপিটুনিতে নিহত প্রধান অভিযুক্তের নাম অন্তর মজুমদার (৩০)। সে নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে এবং রায়পুর শহরে ভ্যানে করে ফল বিক্রি করত।

ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ ও বাড়ি থেকে বিতাড়ন: খুনের নেপথ্য কারণ

অনুসন্ধানে ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বীজ রোপিত হয়েছিল প্রায় এক বছর আগে। ঘাতক অন্তর আগে ওই ভবনেরই পাঁচতলার একটি কক্ষে ভাড়া থাকত। সেই সুবাদে নিচতলার ভাড়াটিয়া শাহিনুর বেগমের পরিবারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
প্রতিবেশীরা জানান, অন্তরের স্বভাব-চরিত্র ভালো ছিল না, সে নিয়মিত মাদক সেবন করত। একপর্যায়ে সে শাহিনুর বেগমকে লক্ষ্য করে আজেবাজে মন্তব্য ও উত্ত্যক্ত (ইভটিজিং) করা শুরু করে। শাহিনুর বেগম এর তীব্র প্রতিবাদ করলে দুজনের মধ্যে চরম বাগবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানালে চাপের মুখে অন্তরকে ওই বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
বাসা থেকে বিতাড়িত হয়ে চরম অপমানিত বোধ করে অন্তর। স্থানীয়দের ধারণা, সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতেই ভেতরে ভেতরে এক বছর ধরে এই বর্বরোচিত খুনের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করছিল সে।

যেভাবে চালানো হয় পৈশাচিক তাণ্ডব

বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ধারালো অস্ত্র নিয়ে শাহিনুর বেগমের বাসায় ঢোকে অন্তর। বাসায় কোনো পুরুষ মানুষ না থাকার সুযোগে সে প্রথমে শাহিনুরের ওপর হামলা চালায়। মাকে বাঁচাতে তিন মেয়ে এগিয়ে এলে ঘাতক অন্তর পশুর মতো মেতে ওঠে রক্তহোলিতে। চারজনকেই এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত করে সে।
চিৎকার শুনে পাশের বাসার ভাড়াটিয়ারা জানালা দিয়ে এই নারকীয় দৃশ্য দেখে চিৎকার শুরু করলে অন্তর পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ততক্ষণে আশপাশের ক্ষুব্ধ জনতা তাকে ঘিরে ফেলে এবং গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দুপুরে ঢাকা নেওয়ার পথে মারা যায় এই খুনি।

বর্তমান পরিস্থিতি ও পুলিশের বক্তব্য

এই পৈশাচিক ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। উত্তেজিত জনতাকে সামাল দিতে গিয়ে ইটপাটকেলের আঘাতে ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় শাহিনুর বেগমের একমাত্র ছেলে জুনায়েদ ইসলাম (১৮) দোকানে কাজে থাকায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান।

লক্ষ্মীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ ‘দৈনিক শীর্ষ অপরাধ’কে জানান:
“হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট মোটিভ এখনো শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি, কারণ অভিযুক্ত যুবকও গণপিটুনিতে মারা গেছে। তবে প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উচ্ছেদের প্রতিশোধ নিতেই অন্তর এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম জোরদারভাবে চলমান রয়েছে।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights