• মে ১৯, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

ভোটের দিন মোবাইল নিষিদ্ধ: শৃঙ্খলা নাকি নিয়ন্ত্রণ?

Byadmin

ফেব্রু. ৯, ২০২৬

এস এম শাহজালাল :


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট—দুটিই একসঙ্গে। সেই দিনে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়-১ শাখা থেকে পাঠানো এক নির্দেশনায় এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারদের কাছে চিঠিটি ইতোমধ্যেই পৌঁছেছে।
চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়েছে—ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে সাধারণ ভোটারসহ কেউই মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। কেবলমাত্র কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী দুইজন আনসার সদস্য মোবাইল বহনের অনুমতি পাবেন।
ইসি বলছে, এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, গোপন ব্যালট রক্ষা এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা গুজব ছড়ানো ঠেকানো। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ।
কিন্তু বাস্তব রাজনীতির ময়দানে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশ্নও উঠছে। একদিকে নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের বার্তা দিচ্ছে; অন্যদিকে ভোটকেন্দ্র থেকে মোবাইল দূরে রাখার সিদ্ধান্তকে কেউ কেউ দেখছেন তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ হিসেবে। বিশেষ করে গণভোট ও সংসদ নির্বাচন একই দিনে হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা এবং স্বচ্ছতা—সব মিলিয়ে বাড়তি নজরদারির প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখের বেশি, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখের বেশি এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩৪ জন। সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে মোট কক্ষের সংখ্যা ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি। গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় গোপন বুথের সংখ্যা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোবাইল নিষেধাজ্ঞা একদিকে যেমন ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা কমাতে সহায়ক হতে পারে, তেমনি ভোটারদের আস্থার প্রশ্নটিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ভোটের দিনে ভোটারদের মনে যেন ভয় বা অনিশ্চয়তা তৈরি না হয়—সেটিই হবে কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
শেষ পর্যন্ত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়; এটি হবে গণতন্ত্রের ওপর আস্থার পরীক্ষা। মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত সেই পরীক্ষায় আস্থা বাড়ায়, নাকি সন্দেহ—তা নির্ধারিত হবে ভোটের মাঠেই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights