★ ছয় প্রার্থীর মধ্যে চার প্রার্থীর প্রচার জমে উঠেছে।
ইসরাত জাহান ময়না
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বরিশাল -৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে রাজনীতির মাঠে বাড়ছে উত্তাপ। ভোটের মাঠে ছয় প্রার্থীর মধ্যে চার অপরাজিত প্রার্থীর প্রচার জমে উঠেছে। নদী বেষ্টিত জনপদ মুলাদী ও বাবুগঞ্জ এ দুই উপজেলায় ১৩ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে বরিশাল-৩ আসন গঠিত।
বরিশাল-৩ আসনে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছেন প্রার্থীরা। তিন লাখ ৩২ হাজার ভোটারের এ আসনে ইতোমধ্যে চার প্রার্থীই নিজেদের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন সমানতালে। তবে ভোটযুদ্ধে প্রভাবশালী বিএনপি ও জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতের ১০ জোটের মনোনীত প্রার্থীকে ঘিরে নির্বাচনী নদী বেষ্টিত জনপদে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। গণঅধিকার পরিষদ প্রার্থীও মাঠ পর্যায়ে প্রচার প্রচারণায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে। ইসলামী আন্দোলন এবং সমাজ তান্ত্রিক দল (বাসদ) এ দুই দলের প্রার্থী থাকলেও তাদের নেই এলাকায় পরিচিতি। এই দুই প্রার্থীর শুধু মাইকে প্রচার সীমাবদ্ধ।
সব রাজনৈতিক দলের কাছে আসনটির গুরুত্ব বেশি। বিগত ১২টি সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগ দুইবার, বিএনপি চারবার , জাতীয় পার্টি চারবার ও ওয়ার্কার্স পার্টি দুইবার বিজয়ী হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ও প্রতীক হাতে পেয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তারা। এই আসনে আওয়ামী লীগ দৃশ্যত অনুপস্থিত থাকায় নির্বাচনী প্রতিযোগিতা মূলত বিএনপি ও জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতে ইসলামীর ১০ দলীয় মনোনীত প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ৫ আগস্টের পর মাঠে সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্রদের। এবার এ আসনে পাল্টে যেতে শুরু করেছে রাজনীতির দৃশ্যপট। হাসিনা সরকারের পতনের পর এ আসনে রাজপথে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। এ আসনে বিএনপি-জামায়াত পুনরায় রাজনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার জনগণের আকাঙ্ক্ষা, দীর্ঘ দমন-পীড়নের ইতিহাস এবং বিরোধী দলগুলোর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় আসনটি এখন পরিণত হয়েছে একটি ‘নির্বাচনী হটস্পটে’।
এ আসনে বর্তমানে মোট ভোটার তিন লাখ ৩২ হাজার ৯৭ জন। পুরুষ ভোটার এক লাখ ৬৭ হাজার ৯২১ জন। মহিলা ভোটার এক লাখ ৪১ হাজার ৭৩ জন। তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ৩ জন।
এ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ছয়জন প্রার্থী। তারা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী (ধানের শীষ) প্রতীকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী (লাঙ্গল) প্রতীকে গোলাম কিবরিয়া টিপু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী (ঈগল) প্রতীকে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী (হাতপাখা) প্রতীকে উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী (ট্রাক) প্রতীকে এইচ এম ফারদিন ইয়ামিন ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত প্রার্থী (মই) প্রতীকে আজমুল হক জিহাদ।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, দুঃসময়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দলের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছি। মাঠ পর্যায়ে একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। তাই সকল দিক বিবেচনা করে দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। দল ও দলের অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ কর্মীরা এক যোগে কাজ করে যাচ্ছেন। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় ও ন্যায়ের পক্ষে আমি নির্বাচনে নেমেছি। আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত।
এদিকে বরিশাল-৩ আসনের তিন বারের সাবেক সাংসদ গোলাম কিবরিয়া টিপু রাজনৈতিক মামলায় জেলহাজতে থাকায় তার পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রচার প্রচারণা এবং গণসংযোগ করছেন জাতীয় পার্টির দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানিয়দের নিয়ে তার মেয়ে হাবিবা কিবরিয়া।
গোলাম কিবরিয়া টিপুর মেয়ে হাবিবা কিবরিয়া বলেন, আমার বাবা গোলাম কিবরিয়া টিপুকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে । জনগণ বিপুল ভোট দিয়ে আমার বাবাকে বিজয়ী করবেন। তিনি এ আসনের তিন বারের সংসদ সদস্য ছিলেন । নির্বাচনী এলাকায় তিনি উন্নয়ন মূলক কাজ করেছেন। তিনি সৎ, যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেছেন এবং আমরাও কাজ করে যাচ্ছি। জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রাখবে আমি বিশ্বাস করি।’
জামায়েত ইসলামী বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার আমির মাওলানা মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনের সাড়ে ১৫ বছরে আমরা প্রকাশ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে পারিনি। আওয়ামী লীগের অগোচরে জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলাম। আমাদের দলীয় মনোনীত ১০ দলের প্রার্থী এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ঈগল প্রতীকে নির্বাচন করতেছেন। নির্বাচন সামনে রেখে আমরা মানুষের কাছে যাচ্ছি। জামায়াতের প্রতি সমর্থনের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। ভালো সাড়া পাচ্ছি। জামায়াতে ইসলামীর প্রতি অতীতের চেয়ে মানুষের ভালোবাসা বেড়েছে। মানুষ চায়, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ। এজন্য জামায়াতের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ একজন সৎ, যোগ্য প্রার্থী। তিনি বিগত দিনে এলাকায় অনেক উন্নয়ন মূলক কাজ করেছেন। জনগণ ঈগল প্রতীকে তাকে ভোট দিবেন এবং তিনি এ আসন থেকে জয় লাভ করবেন।
প্রার্থীরা বিভিন্ন এলাকার সমাবেশে বলছেন, নির্বাচিত হলে মুলাদী-বাবুগঞ্জে কোনো সন্ত্রাস হতে দেবেন না। উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
পক্ষ-বিপক্ষ, মত-দ্বিমত আর উৎসাহ উদ্দীপনায় জমজমাট হয়ে উঠেছে বরিশাল-৩ আসনের নির্বাচনী পরিবেশ। জনমতে এ আসনে ধানের শীষ, লাঙ্গল ও ঈগল প্রতীকের এই তিন প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভ
