• মে ১৯, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

কড়াইল বস্তিতে আধিপত্যের লড়াই: চাঁদাবাজি, দখল ও মাদকের অভিযোগে আতঙ্ক

Byadmin

মার্চ ৯, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি :

রাজধানীর গুলশান-বনানী সংলগ্ন কড়াইল বস্তি এলাকায় চাঁদাবাজি, দখল এবং মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।

১৬ বছর ধরে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৬ বছর ধরে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠী বস্তিতে মার্কেট বসানো, ঘর দখল, ঘর কেনাবেচায় কমিশন আদায়, অবৈধ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ এবং পানি সরবরাহের নামে নিয়মিত অর্থ আদায় করে আসছিল।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা হারালে ওই গোষ্ঠীর কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা এলাকা ছাড়েন। তবে বাসিন্দাদের অভিযোগ, পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। বরং আগের মতোই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ নিতে হচ্ছে এবং চাঁদার পরিমাণও বেড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, আগের প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কিছু অনুসারী এখন নিজেদের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের কর্মী পরিচয় দিয়ে নতুন করে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।

বিশাল বস্তিতে প্রভাব বিস্তারের লড়াই

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন প্রায় ৯৫ একর সরকারি জমির ওপর গড়ে ওঠা কড়াইল বস্তিতে প্রায় ৭০ হাজার ঘর রয়েছে। এখানে আনুমানিক ৫০ হাজার পরিবার বসবাস করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলতলা, এরশাদনগর, আদর্শনগর, বেদে বস্তি ও ওয়ালভাঙা বস্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির ভেতরেই কয়েকটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা চলছে।

গত ২২ জানুয়ারি দুই পক্ষের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় বনানী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে আসামিপক্ষ থানার সামনে বিক্ষোভও করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, বস্তির জামাই বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন শাহজাহান নামে এক বিএনপি নেতা। এছাড়া মোকলেস, শাহ আলম, বিপ্লব ও গিয়াস উদ্দিনের নামও বাজার ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

পানি ব্যবসার সঙ্গে বৌবাজারের বিলাল হোসেন, রোকেয়া সরকার ও আমেনা বেগমের নামও স্থানীয়দের মুখে শোনা যাচ্ছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগের সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার অভিযোগ

স্থানীয়দের দাবি, কড়াইল বস্তির বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চলছে। মাটির রাস্তা, কুমিল্লা পট্টি, বেলতলা, ভাঙা অল, স্যাটেলাইট ব্রিজপাড় ও বেদে বস্তি এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কিন্তু কড়াইল এলাকায় এখনো তেমন কোনো দৃশ্যমান অভিযান দেখা যায়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহিন, পলাশ, শিমুল (পকেটমার শিমুল নামে পরিচিত) এলাকায় পরিচিত মাদক কারবারি। খলিল, মন্টু, তার ছেলে পলাশ ও সাগরের নামও বিভিন্ন অভিযোগে আলোচিত।

অস্ত্র ও সহিংসতায় আতঙ্ক

স্থানীয়দের দাবি, বস্তিতে অনেকের কাছেই অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। তুচ্ছ বিষয়েও গুলি চলার ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি মাত্র এক হাজার টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে এক যুবককে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে।

রাতের নিরাপত্তা ও ময়লা অপসারণের নামে নিয়মিত চাঁদা আদায়, পালিয়ে যাওয়া নেতাদের ঘরবাড়ি দখল এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিস্তার নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চায় বাসিন্দারা

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বারবার সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় যে কোনো সময় বড় ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বস্তিতে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights