ঢাকা: জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনে জনগণের রায় প্রতিফলিত হলে তবেই তা সুষ্ঠু হয়। আর প্রশাসনকে কাজ করতে না দিলে নির্বাচনের কী পরিণতি হয়, তা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে।
রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় নির্বাচনের স্বচ্ছতা, প্রশাসনের জবাবদিহি ও রাষ্ট্র পরিচালনার নানা বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা পদোন্নতির আশায় পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করলে তা সাময়িক সুবিধা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। এতে জনপ্রশাসনে দুর্নীতি বাড়ে এবং নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
ডিসিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যেকোনো দায়িত্ব পালনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। এতে জনসেবার মান বাড়বে। ডিসিরাই মাঠপর্যায়ে সরকারের মুখপাত্র হিসেবে জনগণের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করেন, ফলে সরকারও তাদের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ইতিহাসের অন্যতম দুর্বল অবস্থায় বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। আড়াই মাসে কিছু অগ্রগতি হলেও তা এখনো সন্তোষজনক নয়।
তিনি অভিযোগ করেন, আগের শাসনামলে ব্যাপক দুর্নীতি ও ঋণের বোঝা সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণ রেখে যাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশকে আমদানিনির্ভর করে ফেলা হয়েছিল এবং বিচার বিভাগ, শিক্ষা ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিসিদের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যা ও খরা মোকাবিলায় তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। সততা, মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই পদোন্নতি ও বদলি করা হবে—এটিই সরকারের নীতি বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সন্ধ্যার মধ্যে মার্কেট বন্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম জোরদার, জনগণের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং খাদ্যে ভেজাল রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি জেলায় শিক্ষার্থীদের জন্য সারা বছরজুড়ে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে।
বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্পূর্ণ বৈষম্য দূর করা সম্ভব না হলেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি নৈতিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই সরকারের লক্ষ্য।
