
বরিশাল বিভাগীয় ব্যুরো
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার চতলবাড়ি–নারিকেলি গ্রাম সংলগ্ন সড়কটি এখন স্থানীয় মানুষের কাছে শুধু একটি যোগাযোগের পথ নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অপরিহার্য অংশ। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নদী ভাঙনের কারণে সড়কটি ঝুঁকির মুখে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কার্যক্রম জোরদার হয়েছে।
ইউএনও’র সরেজমিন পরিদর্শন: গুরুত্বের প্রতিফলন
আজ দুপুরে উজিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা সরেজমিনে চতলবাড়ি সংলগ্ন ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের সময় তিনি
- ভাঙনকবলিত সড়কের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন
- স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা শোনেন
- ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত করণীয় বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন
এই পরিদর্শন স্থানীয়দের মাঝে আস্থা তৈরি করেছে যে বিষয়টি প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে রয়েছে।
ভাঙনের প্রকৃতি ও বাস্তব চিত্র
চতলবাড়ি–নারিকেলি সড়কের একটি বড় অংশ নদীর খুব কাছাকাছি হওয়ায় ভাঙনের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে:
- নদীর স্রোতের প্রভাবে মাটি ধসে যাচ্ছে
- সড়কের প্রস্থ কিছু জায়গায় সংকুচিত হয়েছে
- ভারী যান চলাচলে চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও পরিকল্পনার ভিত্তি
এর আগে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি টিম এলাকা পরিদর্শন করে বাস্তব অবস্থা যাচাই করে।
সে সময় স্থানীয় প্রতিনিধিরা সড়কটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন-
- এটি চারটি ইউনিয়নের মানুষের প্রধান চলাচলের পথ
- বিকল্প কোনো কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই
এই বাস্তবতার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য বড় প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বড় প্রকল্প: সমন্বিত নদী ভাঙন প্রতিরোধ পরিকল্পনা
বর্তমানে “সুগন্ধ্যা ও সন্ধ্যা নদীর ভাঙন হতে বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ ও উজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা রক্ষা কাজ (১ম পর্যায়)” শীর্ষক একটি বড় প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্পের বিস্তারিত:
- প্রাক্কলিত ব্যয়: ৯৫৫৪৮.০০ লক্ষ টাকা
- বাস্তবায়নকাল: জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩০
- লক্ষ্য: নদী ভাঙন প্রতিরোধ, সড়ক ও জনপদ সুরক্ষা
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু চতলবাড়ি নয়, আশপাশের বিস্তৃত এলাকাও সুরক্ষা পাবে।
ডিপিপি অগ্রগতি: অনুমোদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) ইতোমধ্যে প্রকল্পটির ডিপিপি পুনর্গঠন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে।
১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রেরিত সরকারি পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে-
- যাচাই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশোধিত ডিপিপি প্রস্তুত করা হয়েছে
- অনুমোদনের জন্য তা প্রেরণ করা হয়েছে
- প্রকল্পটি দ্রুত পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে
এতে বোঝা যায় প্রকল্পটি এখন বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রসারিত কাজ: একাধিক এলাকা অন্তর্ভুক্ত
প্রকল্পের আওতায় গুঠিয়া ইউনিয়নের দাশের হাট এলাকায় প্রায় ৩ কিলোমিটার বেরিবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
এর ফলে নদী ভাঙন প্রতিরোধে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ফল দেবে।
তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ: ঝুঁকি কমাতে উদ্যোগ
স্থায়ী সমাধান বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত প্রশাসন কিছু জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে:
- ভারী যানবাহন চলাচল সীমিত করা
- ঝুঁকিপূর্ণ অংশে নজরদারি বৃদ্ধি
- স্থানীয়ভাবে সতর্কতা জোরদার করা
এসব উদ্যোগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বয়
প্রকল্পটির গুরুত্ব বিবেচনায় স্থানীয় সাংসদ এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।
তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশাসন ও প্রকৌশল বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
সব শেষে বলা যায়
চতলবাড়ি–নারিকেলি সড়কের ভাঙন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলেও ইতোমধ্যে যেভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা স্থানীয়দের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে।
বরিশাল-২ সাংসদ এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর পৃষ্ঠপোষকতা, ইউএনও’র সরেজমিন পরিদর্শন এবং বড় প্রকল্পের অগ্রগতি ইঙ্গিত দিচ্ছে-সমস্যার একটি টেকসই সমাধান খুব শিগগিরই দৃশ্যমান হতে পারে।

