ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির আহমেদ, খুলনা জেলা প্রতিনিধি :
PR পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবিতে খুলনা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খুলনা জেলা শাখা।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (১২ অক্টোবর) সকালে নগরীর ডাকবাংলো চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে মিছিলসহকারে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। পরে জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমানের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন তারা।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত করা, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচার ও নিষিদ্ধকরণের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও নেজামে ইসলাম পার্টি যৌথভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সফল গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সরকার গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। এসব কমিশনের সুপারিশের আলোকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ১৬৬টি প্রস্তাবের মধ্যে ৮৪টি গৃহীত হয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকার ইতোমধ্যে ‘জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র’ ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণয়ন করেছে। জামায়াতে ইসলামী বারবার জুলাই সনদকে আইনগত ভিত্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। এ বিষয়ে তারা দুটি প্রস্তাব দিয়েছে—
১. জুলাই জাতীয় সনদের জন্য একটি সংবিধান আদেশ জারি করা,
২. এবং গণভোটের মাধ্যমে সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান করা।
নচেৎ এই সনদ আইনগত স্বীকৃতি না পেলে জনগণের ত্যাগ ও অভ্যুত্থানের অর্জন ব্যর্থ হতে পারে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, আগাম ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজ পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছেন।
বিগত সরকারের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসন, বিরোধীদলের ওপর দমন-পীড়ন, গুম-খুন, মামলা-হামলা, নির্বাচনী প্রহসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের রাজনীতিকরণের কথা তুলে ধরে স্মারকলিপিতে বলা হয়, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দল সেই সময় জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নেয়— তাই তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা কবিরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাস্টার শফিকুল আলম এবং খুলনা মহানগর আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম।
বক্তব্য দেন জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, মহানগর সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম, প্রিন্সিপাল গাউসুল আযম হাদী, আজিজুল ইসলাম ফারাজী, রাকিব হাসান, ইলিয়াস হোসাইন, এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, আশরাফুল আলম, স. ম. এনামুল হক, হাফেজ আমিনুল ইসলাম, এবং বিভিন্ন উপজেলার আমীর ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
