• মে ১৯, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

বরিশালে অবৈধ জুয়ার আসর: শহীদ সিন্ডিকেট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছেবরিশালে অবৈধ জুয়ার আসর: শহীদ সিন্ডিকেট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

বরিশাল বিভাগীয় ব্যুরো

বরিশাল নগরীজুড়ে বিস্তৃত অবৈধ জুয়ার নেটওয়ার্ককে কেন্দ্র করে ‘জুয়া শহীদ’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে সক্রিয় এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হচ্ছে। প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব এবং অভিযোগকৃত প্রভাবশালী যোগাযোগের কারণে এই চক্র আরও সংগঠিত হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর গির্জা মহল্লা, বাজার রোড, কাঠপট্টি, ভাটার খাল সংলগ্ন এলাকা, ঈদগাহ মাঠের পাশ, ঘোরাচাঁদ রোড, কাউনিয়া, ভাটিখানা, বেলতলা ও তালতলীতে নিয়মিত বসছে বিভিন্ন ধরনের জুয়ার আসর। সন্ধ্যার পর থেকে এসব এলাকায় ‘ওয়ান-টেন’সহ নানা ধরনের খেলা জমে ওঠে। শুধু নগরবাসীই নয়, আশপাশের উপজেলা থেকেও খেলোয়াড়রা এসে অংশ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, এই নেটওয়ার্কের মূল সমন্বয়কারী হিসেবে শহীদের নামই বেশি শোনা যায়। তার সঙ্গে স্বর্ণকার শাহীন, স্বর্ণকার রিয়াজ, পোর্ট রোড এলাকার শাহীনসহ আরও কয়েকজন সহযোগী যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ সরাসরি বোর্ড পরিচালনা করছেন, আবার কেউ অর্থ লগ্নি ও সুদের ব্যবসার মাধ্যমে এই চক্রকে সচল রাখছেন।

বিশেষ করে কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, জুয়ার বোর্ডে হেরে যাওয়া খেলোয়াড়দের তাৎক্ষণিকভাবে উচ্চ সুদে টাকা ধার দেওয়া হয়। ফলে অনেকেই ঋণের চক্রে আটকে গিয়ে ধীরে ধীরে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছেন। একাধিক ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে লাভের প্রলোভন দেখিয়ে আকৃষ্ট করা হলেও পরে বড় অঙ্কের টাকার খেলায় জড়িয়ে পড়ে তারা ক্ষতির মুখে পড়েন।

এদিকে, জুয়ার এই বিস্তারের প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়ছেন, বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি, দাম্পত্য কলহ ও সামাজিক অস্থিরতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব আসরকে কেন্দ্র করে চুরি, ছিনতাই ও মাদকসেবনের ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলছে।

অভিযোগের বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে শহীদ দাবি করেন, তিনি আগে এসব কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকলেও বর্তমানে আর সম্পৃক্ত নন। তবে সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এখন দেখার বিষয়-নগরীর এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights