
বরিশাল বিভাগীয় ব্যুরো
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা-এর দেহেরগতি ইউনিয়নের রাহুতকাঠী বন্দর বাজারে সরকারি সড়ক দখল করে অবৈধ দোকান স্থাপনের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে অনুসন্ধানে। স্থানীয় এক বাসিন্দার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্ত করে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের একটি বড় অংশ দখল করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যার ফলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
তদন্তে জানা যায়, বাজারের মধ্য দিয়ে চলাচলকারী প্রায় ১৫ ফুট প্রশস্ত সড়কের অন্তত ৬ ফুট অংশ স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানঘর নির্মাণের মাধ্যমে দখল করা হয়েছে। বিশেষ করে রাহুতকাঠী সংযোগ সড়কের মুখে এই দখল সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। ফলে সড়কটি সংকুচিত হয়ে যান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূর্বে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মৃত মোঃ সুজন কাজীর উদ্যোগে এসব দোকানঘর নির্মিত হয়। বর্তমানে এসব দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী, যার মধ্যে ফল ব্যবসায়ী শামীম হাওলাদারের নাম উল্লেখযোগ্য। অভিযোগ রয়েছে, এখনো এসব দোকানের ভাড়া ব্যক্তিগতভাবে আদায় করা হচ্ছে, যা সরকারি সম্পত্তি দখলের বিষয়টিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, মূল দখলকৃত স্থাপনাগুলোর পাশাপাশি আশপাশের কয়েকজন ব্যবসায়ী দোকানের ছাউনি বাড়িয়ে সড়কের উপর অতিরিক্ত অংশ দখল করে রেখেছেন। এতে সড়কের কার্যকর প্রস্থ আরও কমে গেছে। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে অসংখ্য যানবাহন চলাচল করলেও সংকীর্ণতার কারণে প্রায়ই যানজট ও ছোটখাটো দুর্ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে।
এই সড়ক দিয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্র, নার্সিং কলেজ, ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের যানবাহন চলাচল করে। বিশেষ করে জরুরি সেবার অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় রোগীদের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অতীতে কয়েকটি দুর্ঘটনায় পথচারীরা আহত হওয়ার ঘটনাও নিশ্চিত করেছেন তারা।
এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সড়কটি দ্রুত দখলমুক্ত না করা হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

