
**বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৫৪ জন, পুনর্বাসনে প্রশিক্ষণে ৩ হাজার জুলাইযোদ্ধা; আরও ২৫৩ জনের গেজেটের অপেক্ষা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের মধ্যে গেজেটভুক্ত জুলাই শহীদের সংখ্যা ৮৪৩ জন এবং আহত জুলাইযোদ্ধার সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৬৮ জন। সরকার গত দুই বছরে শহীদ পরিবার, জুলাইযোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তা, মাসিক ভাতা, চিকিৎসা ও বিদেশে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন খাতে মোট এক হাজার ৬ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। একই সঙ্গে পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে প্রায় ৩ হাজার জুলাইযোদ্ধাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং আরও ২৫৩ জন জুলাইযোদ্ধার গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শহীদ পরিবারকে এককালীন ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র এবং মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে আহতদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অতি গুরুতর আহত (ক-শ্রেণি) পাচ্ছেন এককালীন ৫ লাখ টাকা ও মাসিক ২০ হাজার টাকা, গুরুতর আহত (খ-শ্রেণি) এককালীন ৩ লাখ টাকা ও মাসিক ১৫ হাজার টাকা এবং সাধারণ আহত (গ-শ্রেণি) এককালীন ১ লাখ টাকা ও মাসিক ১০ হাজার টাকা।
মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত ৮০৪টি শহীদ পরিবারকে সঞ্চয়পত্র এবং ৭৯০টি পরিবারকে মাসিক ভাতা দেওয়া হচ্ছে। শহীদ পরিবারের সঞ্চয়পত্র ও ভাতায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫০ কোটি ১১ লাখ টাকা। এছাড়া জুলাইযোদ্ধাদের এককালীন সহায়তায় ২১৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা এবং মাসিক ভাতায় ১৬৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫৪ জনকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে, এতে ব্যয় হয়েছে ৩৬৩ কোটি টাকা।
এদিকে যাচাই-বাছাই শেষে মিথ্যা তথ্য বা পুনরাবৃত্তির কারণে ১৩ জনের শহীদ গেজেট এবং ২২১ জন জুলাইযোদ্ধার গেজেট বাতিল করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্প্রতি প্রায় ২ হাজার ৪০০ আবেদন যাচাইয়ের পর প্রথম ধাপে ৭৮৯ জনের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। পরে আরও ২৭৬ জনের তালিকা যাচাই করে ২৫৩ জনকে গেজেট প্রকাশের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকশ আবেদন যাচাই প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার জুলাইযোদ্ধাকে আত্মকর্মসংস্থানের উপযোগী প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাবলম্বী করতে নতুন পুনর্বাসন প্রকল্প নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে। প্রকল্পে আয়মুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার জন্য আর্থিক ও কর্মসংস্থানভিত্তিক সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
