
ঢাকা, ৫ আগস্ট: ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মৃতি অম্লান রাখতে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সড়কের নাম তাদের নামে নামকরণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিগত সময়ে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ড ও সহিংস ঘটনার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে অতীতে সংঘটিত সব অপরাধের বিচার সম্পন্ন করা হবে আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। তিনি জানান, বিচার কার্যক্রম হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, এটি শুধু ২০২৪ সালের আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্ন নয়; বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও জনগণের অধিকার আদায়ের ইতিহাস সংরক্ষণের একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে।
তিনি ইতিহাস সংরক্ষণে বস্তুনিষ্ঠতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, অসম্পূর্ণ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বর্ণনা ইতিহাসের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে। তাই জাদুঘরের প্রতিটি তথ্য যথাসম্ভব নির্ভুল ও তথ্যভিত্তিক হওয়া প্রয়োজন।
এ সময় তিনি জাদুঘরের প্রদর্শনী ও তথ্য বাংলা ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ভাষায় উপস্থাপনের নির্দেশ দেন, যাতে বিদেশি দর্শনার্থীরাও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারেন।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ সময়ের দুঃশাসন, গুম, অপহরণ, নির্যাতন ও সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অসংখ্য মানুষ জীবন দিয়েছেন এবং তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন স্মরণ করবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে স্মৃতি জাদুঘরে বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, অধিকার ও আত্মত্যাগের এক নির্ভরযোগ্য দলিল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
