
নিজস্ব প্রতিবেদক |
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, কথিত ‘আয়নাঘর’ বা গোপন বন্দিশালার আলামত নষ্ট করতে যারা দেয়াল তুলে বিভিন্ন অংশ আড়াল করেছেন, তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১ সদরদপ্তরে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্তের শুরুতে ভুক্তভোগীদের বর্ণনার সঙ্গে স্থাপনার বাস্তব চিত্রের অমিল দেখা যায়। পরে অনুসন্ধানে কিছু অংশে নির্মিত দেয়াল অপসারণ করলে ২৯টি ছোট কক্ষ এবং নিচে একটি ‘ডেথ সেল’-এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব স্থাপনার অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ এবং আলামত গোপনের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
তিনি বলেন, এসব কক্ষে আটক ব্যক্তিদের দীর্ঘদিন অমানবিক পরিবেশে রাখা হতো। অনেক কক্ষ এতটাই ছোট ছিল যে সেখানে শুয়ে থাকার সুযোগও ছিল না। ভুক্তভোগীদের দেওয়া সাক্ষ্য ও বর্ণনার সঙ্গে এসব স্থাপনার মিল পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, অতীতের বিভিন্ন ঘটনায় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের পাশাপাশি পরবর্তীতে যারা দেয়াল তুলে এসব স্থাপনা আড়াল বা পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা হবে।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক, প্রসিকিউটর এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট মামলার বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এ পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।
পরিদর্শন শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. তাবারক হোসেন ভূইয়া বলেন, আইন অনুযায়ী পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। তবে তার দাবি, টিএফআই কোনো নির্দিষ্ট স্থান নয়, বরং একটি ধারণা।
পরিদর্শনে মানবাধিকারকর্মী নুর খান লিটন এবং ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি উপস্থিত ছিলেন। সানজিদা ইসলাম তুলি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে অনেক মানুষকে গুম করে এ ধরনের স্থানে অমানবিকভাবে আটকে রাখা হয়েছিল।
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, গুমের অভিযোগে নিখোঁজ প্রায় ২৫০ জনের বিষয়ে এখনো অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী এবং বর্তমান সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ (আরমান)-কে এই বন্দিশালায় রাখা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
