
নিজস্ব প্রতিনিধি | ঢাকা রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের একটি ফ্ল্যাট থেকে ফারাহ ফেরদৌস (৩২) নামের এক নারী চিকিৎসকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ফারাহ ৩৯তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের একজন মেধাবী কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) কার্ডিওভাসকুলার কোর্সের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে অধ্যয়নরত ছিলেন।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে বহুতল এই ভবনের ১৪ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ালে পুলিশকে খবর দেয় প্রতিবেশীরা। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করে।
খাটের ওপর বসা, টেবিলে ঝুঁকে ছিল মাথা
শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে নিহতের ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে ফ্ল্যাটের তালাবদ্ধ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ। সেখানে দেখা যায়, খাটের ওপর বসা অবস্থায় সামনের টেবিলের ওপর মাথা নোয়ানো ছিল ফারাহর নিথর দেহ। মরদেহটিতে এরই মধ্যে পচন ধরেছিল এবং তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধারের কয়েকদিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
পরিবার ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল থেকে ওই ফ্ল্যাটে একাকী ভাড়া থাকতেন ফারাহ। তার গ্রামের বাড়ি খুলনার ফুলতলায়। গত ২৩ জুন দুপুরে ছোট বোনের সঙ্গে শেষবার মুঠোফোনে কথা হয়েছিল তার। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা তার আর কোনো সন্ধান পাচ্ছিলেন না।
শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) একরামুল হক জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোকের কারণে মারা গিয়ে থাকতে পারেন। তবে এটি হত্যাকাণ্ড, আত্মহত্যা নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু— তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই পরিষ্কার হবে।
থানায় অপমৃত্যুর মামলা
সুরতহাল শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করেছেন নিহতের ছোট বোন নজুলা ফেরদৌস। নজুলা নিজেও একজন চিকিৎসক। পুলিশ এই মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে।
