• রবি. জুন ২৮, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

ফেনীতে যুবলীগ কর্মী পারভেজকে নৃশংসভাবে খুন, গলা কাটা ও হাত বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার

ByShirso aparadh

জুন ২৭, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি, ফেনী ফেনীর ছাগলনাইয়ায় এক যুবলীগ কর্মীকে চরম নৃশংসতায় গলা কেটে ও হাত বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত যুবলীগ কর্মীর নাম জোবায়ের হোসেন পারভেজ। আজ শনিবার (২৭ জুন) সকালে উপজেলার গোপাল ইউনিয়নের নুর আহাম্মদ মাস্টার বাড়ির সামনে থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত পারভেজ নিজকুঞ্জরা গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে এবং দুই সন্তানের জনক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজনৈতিক মামলা এবং একটি দোকান ঘরের মালিকানা সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ আর্থিক বিরোধের জের ধরেই এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে।

মামলার খরচ ও দোকান নিয়ে বিরোধ

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ডজনখানেক মামলায় পারভেজ এবং তার সহযোগী মামুন দীর্ঘদিন জেলহাজতে ছিলেন। সে সময় আদালতের আইনি লড়াইয়ের যাবতীয় খরচ পারভেজ একাই বহন করেন। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর মামুন সেই খরচের টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে চরম বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর ওপর স্থানীয় একটি দোকানের মালিকানা নিয়ে তাদের বিরোধ আরও উগ্র রূপ নেয়।

খুনের আগের রাতের ঘটনা

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বাড়ির সামনে এই দোকান সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে পারভেজ ও মামুনের মধ্যে তুমুল কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পারভেজ উত্তেজিত হয়ে একটি লাইট দিয়ে মামুনের মাথায় আঘাত করেন। পরে রাতেই স্থানীয়রা বিষয়টি বসে সাময়িকভাবে মীমাংসা করে দিয়েছিলেন।

নিহতের পিতা আবু তাহের জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে তিনি ছেলেকে শেষবারের মতো জীবিত দেখেছিলেন। কিন্তু সকাল হতেই বাড়ির সামনে ছেলের গলা কাটা ও শরীর থেকে হাত বিচ্ছিন্ন রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত

ছাগলনাইয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু তাহের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত পারভেজ এবং অভিযুক্ত মামুন ও শাহাদাতের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। জামিনে আসার পর তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম আকার ধারণ করে এবং সেই বিরোধের জেরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার জানিয়েছেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান চলছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এখনই দেখুন

Verified by MonsterInsights