• মঙ্গল. জুন ২৩, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল’ উত্থাপন

ByShirso aparadh

জুন ২৩, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :
১৮৬৭ সালের দেড় শ বছরের পুরোনো আইন বাতিল করে আরও কঠোর ও আধুনিক ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। নতুন এই প্রস্তাবিত আইনে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং (বাজি) ও ম্যাচ ফিক্সিংসহ মোট ২৪ ধরনের অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ১৪ ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। পরে এটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয় এবং আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অপরাধের ধরন ও শাস্তির বিস্তাারিত:

প্রস্তাবিত বিলে জুয়ার মাধ্যম ও ভয়াবহতা বিবেচনা করে শাস্তির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে:

  • সাধারণ জুয়া: প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রচলিত জুয়ায় জড়িত থাকলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
  • অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া: ইন্টারনেট বা ডিজিটাল মাধ্যমে জুয়া খেললে বা পরিচালনা করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
  • অনলাইন বেটিং (বাজি ধরা): ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বাজি ধরলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।
  • ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিং: খেলাধুলায় ফিক্সিংয়ের সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১ কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের শাস্তি দেওয়া হবে।

কেন এই নতুন আইন?

বিলের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ বর্তমান যুগের আধুনিক ও ডিজিটাল জুয়া প্রতিরোধে একেবারেই অপর্যাপ্ত। সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে জুয়া নিরোধে রাষ্ট্রের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার যে নির্দেশনা রয়েছে, এই বিলটি তারই ধারাবাহিকতা। এছাড়া ২০১৮ সালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনেও এই পুরোনো আইনটি যুগোপযোগী করার প্রস্তাব এসেছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অনলাইন জুয়া, ভার্চ্যুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া এবং স্পোর্টস বেটিং আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। অপরাধীরা ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভুয়া সিম ও বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করছে।
এর ফলে একদিকে যেমন ডিজিটাল জালিয়াতি ও প্রতারণা বাড়ছে, অন্যদিকে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হচ্ছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের জন্য এক বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সময়ের সাথে সাথে জুয়ার বিস্তারে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যে সমন্বয় ঘটেছে, তা শক্ত হাতে দমন করতেই এই উদ্যোগ। জনশৃঙ্খলা রক্ষা, পারিবারিক ও মানসিক ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও নৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার স্বার্থেই এই সমন্বিত ও যুগোপযোগী আইনটি পাস করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights