• বৃহস্পতি. জুন ২৫, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর: অবশেষে হাতে আসছে আগ্নেয়াস্ত্র

ByShirso aparadh

জুন ২৪, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

মাদকদ্রব্যের ছোবল থেকে দেশবাসীকে রক্ষার লড়াইয়ে যুক্ত হচ্ছে নতুন শক্তি। দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে অস্ত্র হাতে পাচ্ছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তারা। মাঠপর্যায়ে মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও কার্যকর করতে এবং জীবনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে।

ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ১৮ বছরে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে অধিদপ্তরের ১২৫ জন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন এবং দুজন সদস্য কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রেই মাদক কারবারিরা অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়, যার বিপরীতে নিরস্ত্র কর্মকর্তাদের নিজেদের রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও গত ১৮ বছরে তারা ৭৮টি পিস্তল, সাতটি শটগান, ২৭টি ম্যাগাজিন, ১৭টি রিভলবার এবং বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করেছেন।

অস্ত্র ক্রয় ও প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (ক্রয়, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অধিশাখা) এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আপাতত ২৭৫টি ৯ এমএম আধা-স্বয়ংক্রিয় পিস্তল কেনা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে ৫৯৫টি পর্যন্ত অস্ত্র কেনার অনুমোদন রয়েছে।

ইতিমধ্যে কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে ৩৫ দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৬০ জন কর্মকর্তা (উপ-পরিদর্শক থেকে উপ-পরিচালক পর্যন্ত) এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। পর্যায়ক্রমে বাকি কর্মকর্তারাও এই প্রশিক্ষণের আওতায় আসবেন।

অস্ত্র ব্যবহারে কঠোর নীতিমালা অস্ত্র পেলেও তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকার একটি সুনির্দিষ্ট ও কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করেছে:

  • সর্বশেষ পন্থা: অস্ত্র ব্যবহার করতে হবে কেবল আত্মরক্ষা বা চরম পরিস্থিতিতে। গুলি করার আগে লাঠিচার্জ বা অস্ত্রের বাঁট দিয়ে আঘাত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হবে।
  • ফাঁকা গুলি: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে প্রথমে আকাশের দিকে ফাঁকা গুলি ছুড়তে হবে এবং হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দিতে হবে।
  • সীমিত ব্যবহার: ফাঁকা গুলিতে কাজ না হলে মাদক কারবারির কোমরের নিচে, হাঁটু অথবা পায়ে সর্বোচ্চ একটি সরাসরি গুলি করা যাবে। কোনোভাবেই একটার বেশি সরাসরি গুলি চালানো যাবে না।
  • দায়বদ্ধতা: গুলি করার পর প্রতিটি গুলির খোসা সংগ্রহ করতে হবে এবং কেন গুলি চালানো হয়েছে, তার যৌক্তিক কারণ পরবর্তী সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রমাণ করতে হবে।
  • সংরক্ষণ: নিজস্ব অস্ত্রাগার না হওয়া পর্যন্ত এই অস্ত্রগুলো জেলা প্রশাসকের ট্রেজারি রুম, জেলা পুলিশ লাইনস বা সংশ্লিষ্ট থানার অস্ত্রাগারে কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারিতে থাকবে।

মহাপরিচালকের মন্তব্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেন, ‘এতদিন আমাদের কর্মকর্তারা চরম ঝুঁকির মধ্যে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমাদের অফিসাররা অস্ত্র হাতে অভিযানে নামবেন। এতে একদিকে যেমন মাদক উদ্ধার বেশি হবে, অন্যদিকে কারবারি গ্রেফতারের হারও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।’

সূত্র জানিয়েছে, সব আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই অস্ত্র নিয়ে মাঠপর্যায়ে অভিযানে অংশ নিতে পারবেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights