• মে ১৯, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণে জোর, উৎপাদন বৃদ্ধি ও খরচ কমাতে সরকারের উদ্যোগ

Byadmin

এপ্রিল ২৮, ২০২৬

শেখ ফরিদ উদ্দিন :

দেশের কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ হ্রাস এবং কৃষিকে লাভজনক ও টেকসই করতে আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ও যান্ত্রিকীকরণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ কথা জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে তাঁর কার্যালয়ে বেলারুশের রাষ্ট্রদূত -এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান অর্থনীতির দেশ। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা পূরণে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এ লক্ষ্যেই সরকার সার, উন্নত বীজ ও কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে কাজ করছে।

কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, ডেইরি ও প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন বাড়াতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ফসলের উন্নত জাত উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রতিকূল জলবায়ুতেও উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার ইতোমধ্যে দেশের কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। -এর তথ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থাপনা উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সম্পদের দক্ষ ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের প্রধান দিকগুলো হলো:

প্রথমত, উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবন ও চাষাবাদ বাড়ানো হচ্ছে। লবণাক্ততা, খরা ও বন্যা সহনশীল ধান ও অন্যান্য ফসলের জাত কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ দ্রুত সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। জমি প্রস্তুত, বীজ বপন, পরিচর্যা থেকে শুরু করে ফসল কাটা পর্যন্ত আধুনিক যন্ত্রপাতি যেমন কম্বাইন হারভেস্টর ব্যবহারে কৃষকের সময় ও শ্রম কমছে, ফলে উৎপাদন খরচও হ্রাস পাচ্ছে।

তৃতীয়ত, সেচ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। প্রিসিশন ইরিগেশন, ড্রিপ ইরিগেশন এবং মাটির আর্দ্রতা নির্ণায়ক সেন্সর ব্যবহারের মাধ্যমে পানির অপচয় কমিয়ে দক্ষ সেচ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

চতুর্থত, ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে। মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং কৃষি তথ্য সেবার মাধ্যমে কৃষকদের তাৎক্ষণিক পরামর্শ, আবহাওয়া তথ্য ও বাজারসংক্রান্ত তথ্য প্রদান করা হচ্ছে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করছে।

এছাড়া, বিভিন্ন উন্নয়ন অংশীদারের সহায়তায় কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল উৎপাদন এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তা তৈরিতে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত মিখাইল কাসকো বলেন, বেলারুশ কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে বিশেষ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দেশ। বাংলাদেশ চাইলে কৃষি যান্ত্রিকীকরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রদান করতে তাদের দেশ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও জানান, বিশ্বের অন্যতম পটাশ সার উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বেলারুশ বাংলাদেশে এই সার সরবরাহে আগ্রহী।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে দেশের কৃষিখাত আরও শক্তিশালী ও টেকসই হয়ে উঠবে, যা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights