• মে ১৮, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

**জ্বালানির দামের ধাক্কা: বাসভাড়া বাড়িয়ে নতুন করে চাপে সাধারণ মানুষ**

Byadmin

এপ্রিল ২৩, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার |

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে আবারও বাসভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি কিলোমিটারে বাসভাড়া বেড়েছে ১১ পয়সা—যা সরাসরি যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম নতুন ভাড়ার ঘোষণা দেন। ঘোষণা অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রেও একই হারে বৃদ্ধি করে ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে ২ টাকা ২৩ পয়সা করা হয়েছে।

জনগণের প্রশ্ন: কেবল ভাড়া বাড়লেই কি সমাধান?**

যাত্রীরা বলছেন, প্রতিবার জ্বালানির দাম বাড়লেই দ্রুত ভাড়া বাড়ানো হয়, কিন্তু সেবার মান বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। রাজধানীর অফিসগামী এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের আয় তো বাড়ছে না, কিন্তু খরচ প্রতিদিনই বাড়ছে। সরকার কি কখনও আমাদের দিকটা ভেবে দেখে?”

জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি—কার স্বার্থে?**

গত ১৮ এপ্রিল সরকার ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে, যা ১৯ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিলেও এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিশেষজ্ঞদের মত: বিকল্প ভাবনা কোথায়?**

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধুমাত্র ভাড়া বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আনা, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং গণপরিবহনে ভর্তুকি দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

পুনরাবৃত্তির চক্র**

এর আগে ২০২২ সালেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাসভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ কমেনি। ফলে নতুন করে ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে অনেকেই ‘পুরনো সমস্যার নতুন চাপ’ হিসেবে দেখছেন।

বাসভাড়া বৃদ্ধি হয়তো সাময়িকভাবে পরিবহন মালিকদের স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে—এটাই এখন বাস্তবতা। জনজীবনের ওপর এর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights