
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
মিরপুরে অনুষ্ঠিত এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে সফরকারী অস্ট্রেলিয়াকে ৮৬ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কার্ডিফে ২০০৫ সালের সেই স্মরণীয় জয়ের পর অজিদের বিপক্ষে এটিই স্বাগতিকদের প্রথম জয়।
টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে সাইফ হাসানকে হারালেও তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তর ৯১ রানের দুর্দান্ত জুটি বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। তানজিদ ৪৪ বলে ৫৪ এবং শান্ত ৮৬ বলে ৬৭ রান করে বিদায় নিলে মাঝে কিছুটা ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দল। তবে ক্যারিয়ার পুনরুজ্জীবিত করার ম্যাচে চমত্কার পারফর্ম করেন মোসাদ্দেক হোসেন। অস্ট্রেলিয়ান ফিল্ডারদের ক্যাচ মিসের সুযোগ পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগিয়ে তিনি ৭০ বলে খেলেন ৮৩ রানের এক অপরাজিত ইনিংস (৭টি চার ও ৩টি ছক্কা)। তাঁর এই লড়াকু ব্যাটিংশৈলীতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় বাংলাদেশ। তাওহিদ হৃদয় খেলেন ৫১ রানের একটি ধৈর্যশীল ইনিংস।
২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের তোপের মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম বলেই তাসকিনের ইনসুইঙ্গারে বোল্ড হন অজি ওপেনার ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারে মোস্তাফিজের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন মার্নাস লাবুশেন। মাত্র ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে সফরকারীরা।
এরপর কুপার কনোলি ও জশ ইংলিস জুটি beauties ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ান তরুণ পেসার নাহিদ রানা। তাঁর এক্সপ্রেস গতি ও বাউন্সের সামনে রীতিমতো অসহায় বোধ করেন অজি ব্যাটাররা। ১৯ রান করা ইংলিসকে আউট করার পর নাহিদের আগ্রাসী উদযাপন মাঠের উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে ৪৭ রান করা থিতু হওয়া ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারিকেও সাজঘরে ফেরান নাহিদ। শেষদিকে ক্যামেরন গ্রিন ৬৬ বলে ৫২ রান করে কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছেন। মাঝে বৃষ্টি হানা দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত ডিএলএসে (DLS) বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়।
বল হাতে নাহিদ রানা ১৪০ কিমি-এর বেশি গতিতে ঝড় তুলে ৪১ রানে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। এছাড়া মোসাদ্দেক হোসেনও বল হাতে দারুণ অবদান রেখে ২টি উইকেট শিকার করেন। অস্ট্রেলিয়ার এই দলটি দ্বিতীয় সারির হলেও, দীর্ঘ দুই দশক পর আসা এই দাপুটে জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নিশ্চিতভাবেই এক বিশেষ মূহুর্ত হয়ে থাকবে।
