
নিজস্ব প্রতিনিধি :
আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সব নাগরিককে ডিজিটাল ই-হেলথ কার্ডের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দেশের স্বাস্থ্য খাতকে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর করার অংশ হিসেবে এই মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের (আসন-৩৭) সংসদ সদস্য নুরুন্নেসা সিদ্দিকার একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ডিজিটাল হেলথ আইডি ও এর সুফল
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, একটি বিশেষ কারিগরি প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য ‘ডিজিটাল হেলথ আইডি’ চালু করা হবে। এই আইডির অধীনেই দেওয়া হবে ই-হেলথ কার্ড। এর ফলে দেশজুড়ে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল স্বাস্থ্য ডেটাবেইস তৈরি হবে।
ই-হেলথ কার্ডের প্রধান সুবিধাগুলো:
- একই ওষুধ বারবার ব্যবহার করার প্রবণতা বন্ধ হবে।
- চিকিৎসকেরা রোগীর পূর্বের মেডিকেল হিস্ট্রি দেখে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
- অপ্রয়োজনীয় টেস্ট ও চিকিৎসার পেছনে বাড়তি খরচ কমে আসবে।
- সামগ্রিকভাবে একটি দক্ষ ও রোগীবান্ধব চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের অঙ্গীকার
নির্বাচনি ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এই লক্ষ্যে স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করেছে সরকার।
তৃণমূল ও দুর্গম অঞ্চলের চিকিৎসায় জোর
ডিজিটাল রূপান্তরের পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ের চিকিৎসাকেন্দ্র এবং পাহাড়ি ও দুর্গম অঞ্চলের স্বাস্থ্য কর্মসূচিগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হবে। এছাড়া মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা, বিনামূল্যে মানসম্মত প্রাথমিক ওষুধ এবং সমন্বিত পুষ্টি কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
এক নজরে সরকারের অন্যান্য বড় উদ্যোগসমূহ:
- কর্মসংস্থান: স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট দূর করতে দেশজুড়ে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
- অবকাঠামো: প্রতি জেলায় একটি করে আধুনিক ‘মাধ্যমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট’ স্থাপন এবং নতুন হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।
- প্রযুক্তি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত ‘জাতীয় ই-প্রেসক্রিপশন’ ও ‘প্রেসক্রিপশন অডিট’ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
- জরুরি সেবা: আপদকালীন চিকিৎসা নিশ্চিতে ‘জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল’ ও জরুরি সেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।
- তদারকি: চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ‘জাতীয় অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল’ গঠন করা হবে।
তামাক ও অন্যান্য কারণে সৃষ্ট অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাণঘাতী জটিল রোগের চিকিৎসায় সরকারি-private (পিপিপি) অংশীদারিত্ব আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলেও মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
