• রবি. জুন ১৪, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

কালিয়াকৈরে প্রিপেইড মিটারের রাজত্ব: অন্ধকারে হাজারো গ্রাহক, চরম ভোগান্তি

ByShirso aparadh

জুন ১৪, ২০২৬

শাকিল হোসেন:

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল কালিয়াকৈর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার এখন গ্রাহকদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সার্ভার জটিলতা, মিটার বিকল, লোড সংক্রান্ত সমস্যা এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকার অভিযোগে অতিষ্ঠ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের লাখো গ্রাহক।

ভুক্তভোগীরা জানান, রিচার্জ করার পরও অনেক সময় মিটারে ২০ ডিজিটের কোড আসে না। ফলে টাকা কেটে গেলেও বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার অফিস বন্ধ থাকায় গ্রাহকদের ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অন্ধকারে থাকতে হয়।

কালিয়াকৈর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন বলেন, “৫০০ টাকা রিচার্জ করলাম, টাকা কেটে গেল কিন্তু কোড এল না। শুক্রবার ও শনিবার অফিস বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ছাড়া থাকতে হয়েছে। গরমে ছোট সন্তান কষ্ট পেয়েছে। এটা কোনো ডিজিটাল সেবা হতে পারে না।”

মিটার বিকল হওয়ার কারণে নষ্ট হচ্ছে ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী। বড়ইবাড়ী ইউনিয়নের গৃহিণী রোকেয়া বেগম অভিযোগ করেন, “মিটার নষ্ট হওয়ার পর ১৬২০ নম্বরে কয়েকবার অভিযোগ দিয়েছি। দুই দিন পেরিয়ে গেলেও কেউ আসেনি। ফ্রিজে রাখা মাছ ও মাংস নষ্ট হয়ে প্রায় ৩ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

একই ধরনের অভিযোগ করেন সফিপুর বাজারের ব্যবসায়ী মো. সুমন মিয়া। তিনি বলেন, “শুক্রবার সকালে ব্যালেন্স শেষ হয়ে যায়। অফিস বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ চালু করতে পারিনি। ফ্রিজে থাকা প্রায় ১৫ হাজার টাকার আইসক্রিম ও কোমল পানীয় নষ্ট হয়েছে।”

প্রিপেইড মিটারের লোড সীমা নিয়েও রয়েছে ব্যাপক অসন্তোষ। গ্রাহকদের অভিযোগ, দুই-তিনটি ফ্যান ও লাইট চালালেই অনেক সময় মিটার ‘ওভারলোড’ দেখিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। লোড বৃদ্ধি করলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান মিলছে না।

একজন গার্মেন্টস কর্মী বলেন, “একটি ফ্যান, দুটি লাইট আর রাইস কুকার চালালেই মিটার ট্রিপ করে। অফিসে গিয়ে লোড বাড়িয়েছি, তবুও সমস্যা থেকে যাচ্ছে। বারবার অফিসে যেতে হচ্ছে।”

এদিকে রাতে ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে অতিরিক্ত খরচে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (প্রকৌশল) সাহারুল ইসলাম বলেন, “সার্ভারে অতিরিক্ত চাপ থাকায় কখনো কখনো রিচার্জ প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। আরইবি থেকে সার্ভার উন্নয়নের কাজ চলছে। মিটার বিকল হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিবর্তনের নিয়ম থাকলেও জনবল সংকটের কারণে মাঝে মধ্যে বিলম্ব হয়।”

তিনি আরও জানান, প্রিপেইড মিটার সংক্রান্ত জটিল সমস্যার সমাধানে নির্ধারিত টেকনিক্যাল সাপোর্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। এছাড়া লোড বৃদ্ধির আবেদন নিয়ম অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হয়। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে জরুরি সেবা চালুর বিষয়ে আরইবি চেয়ারম্যানের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং শুক্র ও শনিবার অন্তত কয়েক ঘণ্টার জন্য জরুরি সেবা কেন্দ্র চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, আধুনিক সেবার নামে সাধারণ মানুষকে এমন ভোগান্তিতে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights