• শুক্র. আগ ১৪, ২০২৬

Daily Shirso Aparadh

ঘটনার অন্তরালের সত্য উদ্‌ঘাটনে

সেপ্টেম্বরের আগেই দিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ByShirso Aparadh

আগ ১৩, ২০২৬

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক জোরদারে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় গুরুত্ব

একরামুল হকঃ

ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যকার সম্পর্ক আরও ইতিবাচক, স্থিতিশীল ও জনকেন্দ্রিক করতে শিগগিরই ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আগেই তার এ সফর হতে পারে। এমনকি চলতি আগস্ট মাসেই প্রধানমন্ত্রী ভারত যেতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বহুপক্ষীয় ব্রিকস সম্মেলনের পরিবর্তে দুই দেশের সরকারপ্রধানের সরাসরি বৈঠককে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর মনে করা হচ্ছে। সম্ভাব্য সফরে গঙ্গা চুক্তি নবায়ন, তিস্তার পানি বণ্টন, বাণিজ্যিক বাধা দূর করা, মানুষের যাতায়াত সহজ করা এবং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ভারতের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের সম্ভাবনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, গত কয়েক বছরে দুই দেশের সম্পর্কে যে দূরত্ব ও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে পারস্পরিক স্বার্থ, সমতা ও সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি সরকার গঠন করলে ভারত, চীন, মালয়েশিয়া ও জাপানসহ কয়েকটি দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানায়। এরই মধ্যে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে শীতলতা দেখা দেয়। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, ভিসা কার্যক্রম, বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ এবং দুই দেশের কূটনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়ে। এ সময় ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ এবং চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনে হামলার মতো ঘটনাও ঘটে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ফোন করেন এবং ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরিও উপস্থিত ছিলেন।

চলতি বছরের এপ্রিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নয়াদিল্লি সফরের পর দুই দেশের মধ্যে ভিসা কার্যক্রম ধাপে ধাপে চালু এবং যাত্রীবাহী বাস চলাচল পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। জ্বালানি সংকটের সময় বাংলাদেশকে ডিজেল সরবরাহ করেও সহযোগিতা করে ভারত।

সম্প্রতি ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

সাক্ষাৎ শেষে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশ আলোচনায় বসলে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা সমাধান করা সম্ভব নয়। জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ওপরও জোর দেন তিনি।

পরে নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সামনে রেখে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে। সফরটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নতুন করে গতি পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights