সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ডে, যায়যায়দিন ও শফিক রেহমান স্যার আর কিছু কথা – এ, এস, এম, রহমাতুল্লাহ

ই-পেপার জাতীয় শীর্ষ সংবাদ সম্পাদকীয়

সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ডে, বাংলাদেশে এই দিনটিকে “ভালোবাসা দিবস” হিসেবে উদযাপনের রীতি চালু করার কৃতিত্ব যাকে দেয়া হয়, তিনি হচ্ছেন আমার প্রিয় লেখক, সাংবাদিক জনাব শফিক রেহমান স্যার তাঁর সম্পাদিত দৈনিক যায়যায় দিন ও মৌচাকের ঢিল।

পত্রিকাতে আমি ও আমার বন্ধুরা নিয়মিত লিখতাম, ভালোবাসা দিবস ছাড়াও গল্প লিখতাম আমরা, তখন ভালোবাসা দিবস সবার সমনে বলা যেত না,বললে অসভ্য বদমাইশ বলতো বড়রা। আমার পরিবার রক্ষণশীল হওয়ায় আমি ছদ্ম নামেই বেশী লিখতাম মিতুল ছিলো ছদ্ম নাম । এই নামটাও দিয়েছিল আমার এক প্রিয় কলম বন্ধু যশোর কেশবপুর এর পাজিয়া কলেজের প্রিন্সিপাল এর মেয়ে ফাহাদ ফারজানা শিরিন । তখন শিরীন এমএম কলেজে পড়তো তার দেওয়া এই মিতুল নামটা কিছু দিনের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হতে লাগলো। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে বন্ধুদের চিঠি আসতে শুরু করলো এই নামই । তখন ওর কারণেই সারাদেশে আমার কলম বন্ধুর সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পায়। তখন আমি খুলনাতে টুটপাড়ার সরকার পাড়ায় কাজী দেনায়েত হোসেন বিরু মিয়ার বাড়ীতে দ্বিতীয় তলার একটা ফ্লোর ভাড়া থাকতাম এক সাথে হাদিউজ্জামান হাদী ভাই, সাইফুউদ্দিন ভাই, সহ ১০ জন। তখন তো আর মোবাইল এর চলন ছিলো না! ছিলো বিরু মিয়ার টিএন্ডটি লাইন আর চিঠির বিনিময়। আমার কাছে তখন এত চিঠি আসতে শুরু করলো যে , কাজী দেনায়েত হোসেন বিরু মিয়ার বাড়ি পোস্টম্যানদের একদম মুখস্থ হয়ে গেল। তখন সারাদেশে আমার এই নামে পরিচিতি পাওয়ার মূলের মাধ্যম ছিল যায়যায়দিন পত্রিকা।

এই পত্রিকায় ১৯৯৩ সালে প্রথম এই দিনটিকে উপলক্ষ করে বিশেষ ‘ভালোবাসা সংখ্যা’ বের করেছিল। … ভ্যালেন্টাইন্স ডে দিনে দিনে বাংলাদেশে বড় উৎসবে রূপ নিলো, এই পত্রিকার সম্পাদক আমার খুব প্রিয় ভাজন মানুষ শফিক রেহমান। কখনো ভাবিনি যে এই ভালোবাসা দিবস এত বড় রূপ নেবে। এই পত্রিকায় যখন ভালোবাসা দিবস নিয়ে আমার প্রথম গল্প ছাপা হলো তখন আমি একটা পত্রিকা অনেক কষ্ট করে কিনেছিলাম কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না এর কপি এক মিনিট পরপর গল্পটি বের করে দেখছিলাম আর ভাবছিলাম আমার লেখা ছাপা হয়েছে কি যে খুশি লাগছিল সেদিন। সেই সংখ্যাটিতে যাকে নিয়ে লিখেছিলাম তাকে চমকে দেওয়ার জন্য সে সেই পত্রিকা আর ঢাকার আজাদ প্রোডাকশন হতে ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি লম্বা একটি ভালোবাসা দিবসের একটি বিশেষ কার্ড তৈরি করে দিয়েছিলাম । ফরিদপুর বোয়ালমারির কোন এক মাধবীলতা কে প্রত্যেক ভালোবাসা দিবস আসলেই মনে পড়ে সেই দিনটির কথা , মনে পড়ে প্রিয় লেখক শফিক রেহমানের কথা মনে পড়ে ,সেই বন্ধু ফাহাদ ফারজানা শিরিনের কথা, মনে পড়ে সারাদেশের বিভিন্ন জেলার সেই সব কলম বন্ধুর কথা যারা আমাকে আজও মনে রেখেছে । ভালোবাসা দিবসে একটাই প্রত্যাশা করি যে যেখানেই থাকুক না কেন ভাল থাকুক সুন্দর থাকুক এই প্রত্যাশা সর্বদা।

দীর্ঘ অনেক বছর পর, লেডি ফেরাউন মুক্ত বাংলাদেশে নতুন করে আবার যায় যায় দিন সম্পাদক শফিক রেহমান স্যার ঘোষণা দিয়েছেন ভালোবাসা দিবস সংখ্যা বের করবেন শুনে অনেক অনেক ভালো লেগেছে আমার এবং আমার সহপাঠীদের। এতদিন পরে প্রিয় এক ম্যাগাজিন আবার বাজারে পাবো এটা জেনেই অনেক ভালো লাগছে। আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ বা ভালোবাসা দিবসে জনাব শফিক রেহমান স্যার আপনি ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন, থাকুন চির তরুন চির যুবক হয়ে। জয় হোক ভালোবাসার জয় হোক মানবতার।

১২ ই ফেব্রুয়ারির পরের নতুন বাংলাদেশে সব ভেদাভেদ হিংসা বিদ্বেষ ভুলে সমাজের শ্রেণী পেশার সকলকে ভালবাসতে পারি আমরা এই প্রত্যয় হোক আমাদের।সুস্থ ও সুন্দর থাকুন সফিক রেহমান।শুভ হোক ভালোবাসা দিবস।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।