
রাঙামাটি প্রতিনিধি:
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে রাঙুনিয়া উপজেলার শিলক নদীর ওপর নির্মিত শিলক সেতু ধসে পড়ায় রাঙামাটি ও বান্দরবানের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
শুক্রবার গভীর রাতে রাঙুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া এলাকায় সেতুটি ভেঙে পড়ে। এতে দুই প্রান্তে যানবাহন আটকা পড়ে এবং জরুরি যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, পানির উচ্চতা কমলেই সেখানে অস্থায়ী বেইলি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে সেটি চালু করতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে, অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বিলাইছড়ি, বাঘাইছড়ি, বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়ন। সেখানে অন্তত ২০টি গ্রামের বসতবাড়ি, বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে।
তীব্র স্রোতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত ত্রাণ বিতরণ শুরু করা হবে।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ফারুয়া ইউনিয়নসহ পুরো বিলাইছড়ি উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত সেতু মেরামত, দুর্গত এলাকায় খাদ্য ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
