নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে বাড়তে থাকা হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আগামী রোববার থেকে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে সরকার। প্রথম ধাপে বেশি আক্রান্ত উপজেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বুধবার মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, টিকা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দ্রুত উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং রোববার সকাল থেকেই মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, টিকাদান কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে তারা দায়িত্ব পালন করবেন।
এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় এবার ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হবে, যা আগে ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হামের বিস্তার মোকাবিলায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। চিকিৎসা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন উৎস থেকে ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করে হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক জোট গ্যাভির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং টিকা কেনার জন্য বরাদ্দও রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জিয়াউদ্দীন হায়দার বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা প্রাদুর্ভাবের আকার নিচ্ছে। তবে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানে ঘাটতি, বিলম্বিত কর্মসূচি ও দুর্বল বাস্তবায়ন এই পরিস্থিতি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। তাই এখন সবচেয়ে জরুরি হলো দ্রুত টিকাদান সম্পন্ন করা, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা।
