• মে ২১, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের অভিযোগ: মামলা নিস্তব্ধ—বিআইডব্লিউটিএ-তে দুর্নীতির গভীর ছায়া

Byadmin

নভে. ২২, ২০২৫

সোহেল রানা:

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর এক প্রভাবশালী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ, ঘুষ গ্রহণ, নিয়োগ বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তা হলেন সংস্থাটির বর্তমান পরিচালক (প্রশাসন) এবং সাবেক বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক কাজী ওয়াকিল নওয়াজ।

সূত্র জানায়, রাজধানীর খিলখেত ও আশপাশের এলাকায় তাঁর একাধিক ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চাকরির সুযোগ ও প্রভাব ব্যবহার করে এসব সম্পদ অর্জন করা হয়েছে। একসময় তিনি বন্দর ও পরিবহন বিভাগের “অঘোষিত প্রভাবশালী ব্যক্তি” হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলেও সহকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের অনেকে মন্তব্য করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৪৮০টি ঘাট পয়েন্ট থেকে টোল, রাজস্ব, খালাস ও ইজারাসংক্রান্ত আয় আত্মসাৎ করা হয়েছে। নদীর ফোরশোর (Foreshore) ব্যবহার সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনের ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি চাঁদপুরের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে, যদিও এ বিষয়ে কোনো লিখিত প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

এ ছাড়া হাইড্রোগ্রাফি ও ড্রেজিং-সংক্রান্ত কাজ পেতে হলে মোটা অঙ্কের অর্থ ‘খরচ’ করতে হয়—এমন অভিযোগও এসেছে বিভিন্ন সূত্র থেকে।

দুদকের মামলা অনুমোদন, কিন্তু দায়ের নেই

বিআইডব্লিউটিএ-তে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর একটি মামলার অনুমোদন দিলেও দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো তা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের হয়নি। এই বিলম্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

অনুসন্ধান সূত্র জানায়, শুধু একজন বা দুইজনকে দায়ী করার চেষ্টা করে সংস্থার ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি বৃহৎ দুর্নীতিচক্রকে আড়াল করার চেষ্টাও থাকতে পারে। এ বিষয়ে ‘১২+১’ নামে পরিচিত একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কারও নাম প্রকাশ করেনি দুদক।

দুদক সূত্রে আরও জানা গেছে, আপাতত প্রায় পৌনে ৯ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেলেও বাস্তবে এর পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতে পারে। বিশেষ করে ঘাট ইজারা, নদী খনন (ড্রেজিং), নিয়োগ বাণিজ্য, নৌযানের ফিটনেস সনদ ও লাইসেন্স ইস্যু—এসব ক্ষেত্রেই ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

সাংবাদিকদের তথ্যপ্রাপ্তিতে বাধা

অভিযোগ উঠেছে, বিআইডব্লিউটিএ সদর দপ্তরে দুর্নীতির তথ্য যেন বাইরে না যায়, সে জন্য সাংবাদিকদের তথ্য পেতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। বিভিন্ন সময় দুদক অভিযান চালালেও অভিযোগ রয়েছে—“প্রভাবশালীদের” বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক (প্রশাসন) কাজী ওয়াকিল নওয়াজের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথমে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করলে নম্বরটি ব্লক করা পাওয়া যায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights