• শনি. আগ ২২, ২০২৬

Daily Shirso Aparadh

ঘটনার অন্তরালের সত্য উদ্‌ঘাটনে

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সহায়তার জেরে বুলবুল হত্যা

ByShirso Aparadh

আগ ২১, ২০২৬

প্রধান আসামি সিফাতসহ গ্রেপ্তার ১১, অস্ত্র উদ্ধার

বন্দর প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সহায়তার জেরে ব্যবসায়ী জাহিদ আল আমিন বুলবুলকে (৪০) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি শেখ সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ছয় ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় ধারালো অস্ত্র, লোহার ও এসএস পাইপ এবং একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে বন্দর থানার শাহী মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় শেখ সিফাতের কথিত আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাকে ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত জাহিদ আল আমিন বুলবুল ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহ করেছিলেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শেখ সিফাত ও তার সহযোগীদের সঙ্গে বুলবুলের বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই রাতে বুলবুলের অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে প্রায় ১৮ লাখ ১৭ হাজার টাকার মালামাল লুট করা হয়। এ ঘটনায় বুলবুল মামলা করলে আসামিরা তাকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ।

পুলিশ জানায়, এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় বুলবুলের পথরোধ করা হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত কয়েকজন তাকে ঘিরে ফেলে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রধান আসামি শেখ সিফাতের নেতৃত্বে চাপাতি, রামদা, সুইচ গিয়ার ও এসএস পাইপ দিয়ে বুলবুলের ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ২১ আগস্ট বন্দর থানায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদীর নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা অভিযান শুরু করেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপংকর ঘোষ ও বন্দর থানার ওসি মো. জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পৃথক দল অভিযান চালায়।

অভিযানে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে একটি ছ্যান দা, একটি স্টিলের চাপাতি, একটি প্লাস্টিকের বাটযুক্ত ছুরি, দুটি সুইচ গিয়ার চাকু, একটি ওয়াকিটকি এবং পাঁচটি লোহার ও এসএস পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—শেখ সিফাত (৩২), জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মন (২৯), মাহবুব হোসেন ওরফে মাহাফুজ (৩২), রিয়াদ (৩৩), মো. সিয়াম (২৫), মোসা. মিনারা (৩৫), নাসিমা (৩৬), রুমা (৩৬), ইফরান (২৯), ইয়াসমিন (৪০) ও সিজান ওরফে জিসান (২৬)।

পুলিশের দাবি, প্রধান আসামি শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে ১৪টি, জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মনের বিরুদ্ধে ৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত।

গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights