• শুক্র. আগ ২১, ২০২৬

Daily Shirso Aparadh

ঘটনার অন্তরালের সত্য উদ্‌ঘাটনে

স্ত্রীকে হত্যার পর কবর দিয়ে গুমের চেষ্টা, স্বামী আটক

ByShirso Aparadh

আগ ২১, ২০২৬

নরসিংদি জেলা প্রতিনিধিঃ

নরসিংদীর মাধবদীতে স্ত্রী হোসনে আরা বেগমকে (৩৫) হত্যার পর মরদেহ গুম করতে কবরস্থানে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগে স্বামী শরীফ মিয়াকে (৪২) আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে নরসিংদী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসানের উপস্থিতিতে কবর থেকে হোসনে আরা বেগমের মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এ সময় নরসিংদী জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাজহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে কাঠালিয়া ইউনিয়নের নোয়াকান্দা গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে শরীফ মিয়াকে আটক করে মাধবদী থানা পুলিশ।

নিহত হোসনে আরা বেগম কাঠালিয়া ইউনিয়নের নোয়াকান্দা গ্রামের রহমান মিয়ার মেয়ে। অভিযুক্ত শরীফ মিয়া মাধবদীর ভগীরথপুর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তিনি মাধবদী গরুর হাট বাজার এলাকায় একটি চায়ের দোকানে কাজ করতেন।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, গত ১৭ আগস্ট রাত ৮টার দিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে শরীফ মিয়া স্ত্রী হোসনে আরা বেগমকে থাপ্পড় দিলে তিনি টিউবওয়েলের ওপর পড়ে অচেতন হয়ে যান। এরপর তার আর জ্ঞান ফেরেনি বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন শরীফ।

অভিযোগ রয়েছে, স্ত্রীকে চিকিৎসকের কাছে না নিয়ে শরীফ মরদেহ ঘরের মেঝেতে লুকিয়ে রাখেন। পরদিন ১৮ আগস্ট রাত ১০টার পর তিনি মরদেহ কাঁধে করে বাড়ির পাশের একটি কবরস্থানে নিয়ে যান। সেখানে একাই মাটিচাপা দিয়ে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের জানান, তার স্ত্রী রাগ করে বাড়ি থেকে চলে গেছেন।

পরদিন ১৯ আগস্ট দুপুরে স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে শ্বশুরকে সঙ্গে নিয়ে মাধবদী থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে যান শরীফ। তবে তার কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ জিডি না নিয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে বলে। অভিযোগ দিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান।

পরে পুলিশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হলে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়। একপর্যায়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কবর শনাক্ত করে বৃহস্পতিবার দুপুরে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন করা হয়।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, স্ত্রী হত্যার দুই দিন পর শরীফ থানায় এসে সাধারণ ডায়েরি করতে চেয়েছিলেন। তার কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং মরদেহ কোথায় মাটিচাপা দিয়েছেন, সে বিষয়ে তথ্য দেন।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আটক শরীফ মিয়াকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights