
নিজস্ব প্রতিনিধি:
দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করতে নতুন কয়েকটি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়ে ঢাকা সফর শেষ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তাঁর এই সফরকে বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে ওঠে। বৈঠকের পর জানানো হয়, সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তিনটি নতুন কাঠামো গঠন করা হবে।
এর মধ্যে রয়েছে দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে প্রতিবছর ‘২+২’ সংলাপ আয়োজন, বিদ্যমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের বৈঠককে মন্ত্রী পর্যায়ে উন্নীত করা এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র পর্যালোচনার জন্য একটি যৌথ পরামর্শক ব্যবস্থা চালু করা।
কূটনৈতিক মহলের মতে, তুরস্ক সাধারণত যেসব দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখে, তাদের ক্ষেত্রেই ‘২+২’ সংলাপের মতো ব্যবস্থা চালু করা হয়। বাংলাদেশকে এ ধরনের কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত ঢাকার প্রতি আঙ্কারার বাড়তি গুরুত্বেরই প্রতিফলন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে শুধু রাজনৈতিক যোগাযোগই নয়, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় আরও বৃদ্ধি পাবে।
এর আগে ২০২০ সালে তুরস্কের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত অগ্রসরমান একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ছয় বছর পর বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর সেই মূল্যায়নের ধারাবাহিকতাকেই আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক এই সফরের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, তুরস্ক বাংলাদেশকে শুধু বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবেই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদার হিসেবেও বিবেচনা করছে। ফলে ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে পারে।
