
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা–২০২৫’-এ ১৪৩ শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫ হাজার ৮৭১ জন শিক্ষার্থী এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। গতকাল ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) নবরাত্রি হলে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। গত ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতাটি দেশের ইতিহাসে স্কুলপর্যায়ে সর্ববৃহৎ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী ও জুরি বোর্ডের প্রধান মনিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াশা সোবহান। জুরি বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন লোকজ শিল্পের রূপকার আবদুস শাকুর শাহ, একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী ও অধ্যাপক ড. ফরিদা জামান, একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রচ্ছদশিল্পী ধ্রুব এষ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আনিছুর রহমান এবং কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।
প্রতিযোগিতাটি তিনটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ক্যাটাগরিতে তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি, দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে সপ্তম থেকে দশম শ্রেণি এবং তৃতীয় ক্যাটাগরিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। তিন ক্যাটাগরিতে মোট ৩০ লাখ টাকার ১৪৩টি পুরস্কার, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনিরুল ইসলাম বলেন, বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ আয়োজিত এই ঐতিহাসিক মেগা আর্ট প্রতিযোগিতা শিশুদের সৃজনশীল মেধা বিকাশে এক অনন্য মাইলফলক। ছবি আঁকা শিশুদের মনের ভাষা প্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যম, বিশেষ করে অটিস্টিক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর। শিল্পচর্চা শুধু শিল্পী হওয়ার জন্য নয়, বরং সমাজে নৈতিকতা, নন্দনতত্ত্ব ও মানসিক প্রশান্তি গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইয়াশা সোবহান বলেন, এই আয়োজন শুধু পুরস্কার প্রদান নয়, বরং শিশুদের কল্পনা, স্বপ্ন ও সৃজনশীলতার উদযাপন। শিক্ষার্থীরা তাদের চিত্রকর্মে দেশের স্বাধীনতা ও ত্যাগের ইতিহাস ফুটিয়ে তুলেছে। তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণে তাঁর অবদানেই এত বড় আয়োজন সম্ভব হয়েছে।
বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আনিছুর রহমান বলেন, এই প্রতিযোগিতা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের ইতিহাসকে শিল্পচেতনায় ধারণ করার একটি প্রয়াস। আগামী বছর থেকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও আরও বৃহৎ পরিসরে এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
